জেলা পরিষদের কাজে ব্যস্ত। সে কারণেই স্কুলে যাওয়ার সময় হয় না। পরিবর্তে ডামি শিক্ষিকা দিয়ে চলছে ক্লাস। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতাকে শোকজ লেটার দিলেন ডি আই। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চন্ড...
জেলা পরিষদের কাজে ব্যস্ত। সে কারণেই স্কুলে যাওয়ার সময় হয় না। পরিবর্তে ডামি শিক্ষিকা দিয়ে চলছে ক্লাস। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতাকে শোকজ লেটার দিলেন ডি আই। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চন্ডিপুর ব্লকের ভগবানখালী নিউ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক স্বপন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানখালী নিউ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক স্বপন প্রধান স্কুলে আসেন না। অভিযোগ তাঁর পরিবর্তে স্বপনবাবুর ভাইয়ের স্ত্রী অমিতা প্রধানকে শিক্ষক হিসাবে রেখে ক্লাস করাতেন। বছরের পর বছর স্কুলে ক্লাস না করেও শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত মাইনে নিতেন শিক্ষক স্বপন প্রধান। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা, সঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্যও বটে। তাই ভয়ে এতদিন মুখ খোলেননি কেউই। দীর্ঘদিন অনিয়ম চলার পরে একটি মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে জেলাশাসকের কানে খবরটি পৌঁছে যায়। জেলাশাসক ডিআই-কে নির্দেশ দেন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য। ডিআই এর তরফ থেকে শোকজ লেটার যায় অভিযুক্ত শিক্ষকের হাতে।
ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক তৃণমূল নেতার দাবি, “উপস্থিতের খাতা আমার রেকর্ড বলবে। আমি নিয়মিত ক্লাস করি। অসুস্থতার কারণে আমি মেডিক্যাল লিভ নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি ছুটির লিখিত আবেদন করতে পারিনি । ফোনে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছিলাম । তার পর থেকে নিয়মিত ক্লাস করছি। চিকিৎসা করে ফিরে আসার পর আমি ছুটির আবেদন করেছি ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছি। আমি একটা শোকজ নোটিশ পেয়েছি। তার উত্তরও দেব।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিতাইচরণ মাইতি বলেন “কোন ড্যামি শিক্ষিকা এখানে আসতেননা। একজন শিক্ষানুরাগী মহিলা স্বইচ্ছায় মাঝে মধ্যে আসতেন। কমিটির অনুমোতি নিয়ে তিনি মাঝে মধ্যে আসতেন। একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে মাঝে মধ্যে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও ছাত্রদের পঠনপাঠনের সুবিধার জন্যে ক্লাস নেওয়ার ও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উনি অন্য জায়গায় পড়িয়েছেন সেকারণে কমিটির অনুমতি নিয়ে উনাকে মাঝেমধ্যে বাচ্চাদের পড়াতে বলা হয়েছিল বিনা পারিশ্রমিকে।”