আবারও বিতর্কে জড়ালেন হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। এ বার একটি স্পোর্টস প্রেডিকশন ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিজ্ঞাপনের বেশ কিছু দৃশ্যে প্রায় অনাবৃত অবস্থায় দেখা গিয়েছে অভিনেত্রীকে। শরীর ঢাকতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুটবল, বাস্কেটবল, টেনিস র্যাকেট, বেসবল ব্যাট-সহ নানা ক্রীড়া সরঞ্জাম। বিজ্ঞাপনটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আপত্তি জানিয়েছেন একাধিক ক্রীড়াবিদ। ‘নোভিগ’ নামের ওই বিশেষ প্ল্যাটফর্মের প্রচারের জন্য তৈরি করা ভিডিয়োটিতে কখনও ফুটবল খেলার ভঙ্গিতে, কখনও বাস্কেটবল বা টেনিস খেলার অঙ্গভঙ্গিতে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রীকে। কোথাও ক্রীড়া সরঞ্জাম, কোথাও চুল, আবার কোনও দৃশ্যে আলো-আঁধারির সাহায্যে তাঁর শরীরের গোপন অংশ আড়াল করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনটির একটি দৃশ্যে পুল টেবিলের উপরেও তাঁকে প্রায় অনাবৃত অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। এটি প্রকাশ হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিয়োটি কয়েক কোটি বার দেখা হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমালোচকদের প্রশ্ন, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্থার বিজ্ঞাপনে প্রচারের জন্য কেন একজন মহিলার শরীরকেই শুধু এতটা গুরুত্ব দেওয়া হল? তাঁদের বড়ো অংশের অভিযোগ, এর ফলে মহিলা ক্রীড়াবিদদের পরিশ্রম এবং সাফল্যের চিত্রটাকে না ধরে শুধু তাঁদের শরীর ও যৌন আবেদনকে সামনে আনা হয়েছে। ব্রিটিশ স্প্রিন্টার অ্যামি হান্ট প্রকাশ্যে এই বিজ্ঞাপনের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, খেলাধুলায় মহিলাদের পরিচয় তৈরি হয় দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, পরিশ্রম এবং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। অলিম্পিক্স পদকজয়ী টিলি কার্নস এবং সাইক্লিস্ট সোফি কেপওয়েলও বিজ্ঞাপনটি নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার চার বারের অলিম্পিক্স সাঁতার চ্যাম্পিয়ন আরিয়ানে টিটমাসও সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এই সমালোচনা নিয়ে সরাসরি কোনও বিবৃতি জারি করেননি সিডনি। বরং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বেশ কয়েক জন সুপরিচিত ক্রীড়াবিদের ছবি শেয়ার করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রোন্ডা রাউসি, সু বার্ড, মেগান র্যাপিনো এবং ক্যারোলিন ওজ়নিয়াকি। অতীতে এই ক্রীড়াবিদদেরও বিভিন্ন সাহসী ফোটোশুটের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। পুরুষ ক্রীড়াবিদদের কয়েকটি ছবিও নিজের স্টোরিতে তুলে ধরেছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী। বিতর্কের মধ্যেই ‘নোভিগ’-এর প্রচার অবশ্য বিপুল সাড়া জাগিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজ্ঞাপনটির ভাবনা ছিল খেলাধুলাকে ঘিরে একটি মজার এবং ভিন্নধর্মী প্রচার তৈরি করা। সংস্থার সিইও জ্যাকব ফোর্টিনস্কির দাবি, সিডনি নিজেই এই বিজ্ঞাপনের সৃজনশীল পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু প্রচারের মুখ হিসেবেই নয়, অভিনেত্রী সংস্থাটির ইকুইটি পার্টনারেরও দায়িত্বে রয়েছেন। ফোর্টিনস্কির বক্তব্য, সিডনি বিনোদন দুনিয়ার পরিচিত মুখ হলেও খেলাধুলার প্রতি তাঁর নিজেরও একটা আগ্রহ রয়েছে। ছোটবেলায় ফুটবল ও সফ্টবল খেলেছেন তিনি। স্কি টিমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বহুদিন। মিক্সড মার্শাল আর্টসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে ওয়েকবোর্ডিং শুরু করেছিলেন এবং একসময় এক্স গেমসে অংশ নেওয়ার স্বপ্নও দেখতেন। বর্তমানে হকি ও বক্সিং দেখতে পছন্দ করেন অভিনেত্রী। ২০২৫ সালে বক্সার ক্রিস্টি মার্টিনের জীবন অবলম্বনে তৈরি ছবিতে অভিনয় করার পর বক্সিংয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও দ্বিগুন হয়, বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’ অর্থাৎ অ্যাডাল্ট কনটেন্ট ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। তার জবাবে নোভিগের সিইওর সাফ জবাব, তাঁদের পরিষেবা ২১ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য। তাঁর দাবি, সিডনিই সংস্থার সঙ্গে ইকুইটি অংশীদারির বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন এবং বিজ্ঞাপনের বার্তা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
সিডনিকে ঘিরে বিজ্ঞাপন বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে ‘আমেরিকান ইগল’-এর একটি ডেনিম প্রচারেও তাঁকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনার ঝড় উঠেছিল। ওই প্রচারে ‘জিন্স’ শব্দের সঙ্গে ‘জিন’ বা জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ওয়ার্ডপ্লে করা হয়েছিল। তখনও সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, বিজ্ঞাপনটি অভিনেত্রীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও শ্বেতাঙ্গ পরিচয়কে অপ্রয়োজনীয় ভাবে সামনে তুলে ধরেছে। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির অভিযোগও উঠেছিল তখন। যদিও তৎকালীন সময় সিডনি জানিয়েছিলেন, সমালোচনার কারণগুলি প্রত্যেকটিই তাঁকে অবাক করে। তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল, কোনও বিতর্কিত বার্তার কারণে নয়, ব্র্যান্ডটির প্রতি সমর্থন থেকেই তিনি ওই প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেই প্রচার নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও আলোচনার ঝড় ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেডি ভান্স দু’জনেই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ বার ‘নোভিগ’-এর বিজ্ঞাপন নিয়েও একই ভাবে বিতর্কের কেন্দ্রে সিডনি। তবে সমালোচনার পাশাপাশি এই প্রচার যে সংস্থাটিকে বিপুল জন আলোচনার কেন্দ্রে তুলে এনেছে, তা স্পষ্ট। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তার দর্শকসংখ্যাও।