দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বমহিমায় বাংলার গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক। সমস্ত জল্পনা ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ...
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বমহিমায় বাংলার গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক। সমস্ত জল্পনা ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নিজের জন্মভূমি তমলুকের কাকগেছিয়া এলাকায় নবনির্মিত বিজেপি তমলুক সাংগঠনিক জেলার দলীয় কার্যালয়ের শুভ ভূমিপুজো সম্পন্ন হলো। আর এই বিশেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!
এদিন সকাল থেকেই কাকগেছিয়ার প্রস্তাবিত কার্যালয় চত্বর ছিল উৎসবমুখর। মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞ এবং পবিত্র হরিনাম সংকীর্তনের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। সনাতনী পরম্পরা বজায় রেখে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভূমিপুজোয় অংশ নেন। এই আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও দলের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীরা। চারদিকে গেরুয়া আবির আর জয় শ্রীরাম স্লোগানে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিগত সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পার্টির পক্ষ থেকে এই জমি বহু আগেই কেনা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও প্রতিহিংসার কারণে বিগত সরকার কনভার্শন, মিউটেশন এবং প্ল্যানের কোনো অনুমোদন দেয়নি। ইচ্ছা করে আটকে রাখা হয়েছিল ১৫টি জেলার স্থায়ী কার্যালয়ের কাজ।
বর্তমানে সমস্ত প্রশাসনিক দফতর সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবর্তনের পর আমরা আইন মেনেই সমস্ত অনুমোদন নিয়েছি এবং প্ল্যানের যাবতীয় অর্থ মিটিয়ে কাজ শুরু করেছি। গত ১৩ তারিখ থেকে রাজ্যজুড়ে ১০টি স্থায়ী এবং আরও ১৫টি জেলা কার্যালয়ের কার্যভার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিগত সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, আগের সরকার রাষ্ট্রবাদী কী জিনিস সেটাই জানত না, তোষণের রাজনীতি জানত এবং পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানানো যায়, তার জন্য চিন্তাভাবনা করত। তাই ওদের কাছে দেশপ্রেমিক ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, রজনীকান্ত প্রামাণিক, কুমার জানা, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল এনারা কোনদিনই পুজো পাবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলের পার্টি অফিস ভাঙচুর বা দখলের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় কায়েম হয়েছিল, বর্তমান সরকারে তা সম্পূর্ণ অতীত। একটিও বিরোধী দলের কার্যালয়ে হাত না দিয়ে, আইনি পথে নিজেদের স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলার এই উদ্যোগ রাজ্যে সুস্থ রাজনীতিরই বার্তা দিচ্ছে।