ভারত-সহ রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে বিলে সই করে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ভারতের পাশাপাশি চিনও সমস্যায় পড়তে পারে।'লিন্ডসে ও গ্রা...
ভারত-সহ রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে বিলে সই করে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ভারতের পাশাপাশি চিনও সমস্যায় পড়তে পারে।'লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬' শীর্ষক এই বিলটি এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই পাস হয়ে গিয়েছে। দিন দুয়েক আগে নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। এবার ট্রাম্পের সইয়ের ফলে তা আইনে পরিণত হল।
জানান হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। রাশিয়ার উপর চড়া শুল্ক এবং একাধিক বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলিকেও নিশানা করা হয়েছে এই আইনে। আইনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে আমেরিকায় আমদানি করা যে কোনও পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যাবে। এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের উপরও বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টকে।
এই আইনের কারণে ভারত ছাড়াও চাপে পড়তে পারে চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলি, যাদের সঙ্গে রাশিয়ার তেল কেনাবেচা চলে। মার্কিন কংগ্রেসের এক ডেমোক্র্যাট সদস্য নির্দিষ্ট করে এই দেশগুলির নাম শুল্কের তালিকায় রাখার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদিও তা গৃহীত হয়নি।
তবে ট্রাম্প বিলে সই করেছেন মানেই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গেল, এমনটা নয়। এই আইন শুল্ক আরোপের ছাড়পত্র দিল মাত্র। বাকিটা প্রেসিডেন্টের বিবেচনাধীন। তিনি চাইলে যে কোনও দেশের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত যে কোনও হারে শুল্ক চাপাতে পারেন। যেমন হাঙ্গেরি রাশিয়ার তেল কিনলেও আনুষঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাম্প বরাবর দেশটিকে ছাড় দিয়ে এসেছেন।
কী প্রভাব পড়তে পারে?
বর্তমানে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর গড় শুল্কের হার ১২ শতাংশের কাছাকাছি। ট্রাম্প যদি তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে তা ১০০ শতাংশ করে দেন, তবে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম একলাফে অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ভারতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। নতুন করে অবনতি হতে পারে দুই দেশের সম্পর্কে। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা আমেরিকায় বিল পাসের দিকে নজর রাখছে। তবে ওয়াশিংটনের চাপে নতিস্বীকার করে মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।