সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে গণ আন্দোলনে চাপে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের আগুনে কাঠমন্ডু সহ নেপালের প্রতিটি শহরেই ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, এক্স-সহ...
সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে গণ আন্দোলনে চাপে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের আগুনে কাঠমন্ডু সহ নেপালের প্রতিটি শহরেই ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, এক্স-সহ ২৬টি সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারপরই আন্দোলন-বিক্ষোভ শুরু করে সেদেশের তরুণ সমাজ। আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। আহত-নিহতের সংখ্যাও বাড়ে। একপ্রকার গণ আন্দোলনের চাপে পড়ে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটে। এই আবহে ওলি সরকারের উপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে জেন-জি।
সূত্রের খবর, এমন পরিস্থিতিতে জেন জি-র অভিযোগ, 'নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নির্দেশে গুলি চালায় পুলিস এবং যার ফলেই আহত ও নিহতের সংখ্যাও বাড়বে। শুধু ওলি না ওই সরকারের আধিকারিকরা বরাবরই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসেছে। সেই কারণেই নেপালের অরাজকতার পরিস্থিতি! অবিলম্বে ওদের গ্রেফতার করা উচিত।' ইতিমধ্যেই এমন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে।
নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সেদেশের প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কার্কি! জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই তিনি দাবি করেছেন, 'আমাদের ক্ষমতার ইচ্ছা নেই। সেই আশাও করিনি। এখন দেশের হাল ধরেছি। তবে বেশিদিন থাকব না এই দায়িত্বে। খুব শীঘ্রই নতুন সংসদ গঠন হবে। তারপরই দায়িত্বে আমি আর থাকব না। সাম্প্রতিক সময়ের আন্দোলনে হিংসা ছড়ান হয়েছে। আর যারা যারা এই আন্দোলনে নিহত হয়েছেন অর্থাৎ প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের সবাইকে আমরা শহীদ ঘোষণা করব। পাশাপাশি আন্দোলন-বিক্ষোভে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়। যেসকল মানুষ হিংসার ঘটনায় মদত দিয়েছে, এমনকি অশান্তির ঘটনাকে আরও উস্কে দিয়েছে, তাঁদের কাউকে আমরা ছাড়ব না। সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে। অবিলম্বে সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
উলেখ্য, কিছুদিন আগেই আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের আগুনে কাঠমন্ডু সহ নেপালের প্রতিটি শহরেই ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, এক্স-সহ ২৬টি সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নেপাল সরকার মনে করে সাইবার অপরাধ ও অন্যান্য বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াতে সমাজমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। সেই মতোই নেপালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত মাসেই সমাজ মাধ্যম অ্যাপস ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির প্রশাসন। এই বিষয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, 'সমাজ মাধ্যমের বিরুদ্ধে নয় তাঁদের প্রশাসন। তবে যেসমস্ত সমাজ মাধ্যম গুলি নেপালে প্রশাসনের আইন না মেনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র সেইসব সংস্থার অ্যাপস ব্যবহারেই হ্রাস টানা হচ্ছে।' তারপর থেকেই নেপাল সরকারের এই পদক্ষেপের পরেই কার্যত বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সে দেশের তরুণ-যুব সমাজ। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।