আফগানিস্তানের মতন কি তালিবানী শাসন কায়েম হতে চলেছে বাংলাদেশে? উগ্র মৌলবাদীদের চাপে কি ইসলাম বিরোধী সমস্ত কিছুর উপরই নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চাইছে অন্তর্বর্তী ইউনূস প্রশাসন? সেই প্রশ্নটাই কিন্তু উঠছে। ...
আফগানিস্তানের মতন কি তালিবানী শাসন কায়েম হতে চলেছে বাংলাদেশে? উগ্র মৌলবাদীদের চাপে কি ইসলাম বিরোধী সমস্ত কিছুর উপরই নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চাইছে অন্তর্বর্তী ইউনূস প্রশাসন? সেই প্রশ্নটাই কিন্তু উঠছে। হিন্দুদের দুর্গা পুজো, কালী পুজোর মতন এবার নিষেধাজ্ঞার গ্রাসে খ্রিস্টানদের বর্ষবরণের উৎসবও। পালাবদলের বাংলাদেশে এবার বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের উৎসবেও বিধিনিষেধ জারি করল মুহম্মদ ইউনিসের পুলিস, প্রশাসন।
বাংলাদেশে থার্টি ফাস্ট নাইট পালনের উপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বর্ষবরণের রাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ প্রসিদ্ধ কক্সবাজার এবং টেকনাফ সহ বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে প্রকাশ্যে আতসবাজি ফাটানো চলবে না। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে কনসার্ট এবং জলসার উপরও। কক্সবাজারের জেলাশাসক মহম্মদ সালাউদ্দিন এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে। তবে তিনি জানান কয়েকটি তারকা হোটেলকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে বলাই বাহুল্য সাধারণ মধ্যবিত্তের সেখানে প্রবেশে পকেটের রেস্ত নেই। প্রশাসন অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে বিশেষ অনুমতি নিয়ে স্টার হোটেলগুলিতে কনসার্ট করা যাবে। সেখানে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলেও জানান কক্সবাজারের জেলাশাসক।

এমন ছবি আর দেখা যাবে না কক্সবাজারে
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল মালিক বলেন সরকারের থেকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যা ইসলাম বিরোধী, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি তা বাংলাদেশে আর উদযাপন করা যাবে না। সরকারের এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে কক্সবাজার, টেকনাফের অধিকাংশ হোটেল মালিকই। কারণ এতে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে তাঁদের আশঙ্কা। আর পর্যটকেরা মুখ ফেরালে তাঁদের ব্যবসাও মার খাবে। এমনিতেই বাংলাদেশে বর্তমান ডামাডোলের জন্য পর্যটন ব্যবসা গত বছরের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ মার খেয়েছে বলেও জানান একাধিক হোটেল মালিক। কক্সবাজার বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটক স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রত্যেক বছর দেশীয় পর্ষটকদের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্ষটকও এখানে আসতেন। তাঁদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ডোমাডোলের জন্য ভারতীয় পর্যটকেরা আর আসছেন না। তার উপর সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মরার উপর খাঁড়ার ঘা বলে মনে করছেন অধিকাংশ হোটেল মালিক। তাদের আশঙ্কা এরফলে চিনা এবং ইউরোপীয় পর্ষটকেরাও কক্সবাজার, টেকনাফ, চট্টগ্রামের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

প্রসঙ্গত ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার বিদায়ের পর সেখানে ইসলাম মৌলবাদ ক্রমশ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। হিন্দুদের দুর্গা পুজোর পর এবার তোর কোপে পড়ল বর্ষবরণের উৎসবও। তাতে যে আসলে ক্ষতি হবে বালাদেশের পর্যটন শিল্পেরই তা মুহম্মদ ইউনূসকে কে বোঝাবে ?