কাবুল শহরে আক্ষরিক অর্থেই রাস্তার দু'হাত অন্তর সিসিটিভি লাগিয়েছে তালিবান প্রশাসন। নতুন নজরদারি নেটওয়ার্কে ৯০ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে কাবুল পুলিস। এর মাধ্যমে ৬০ লক্ষ মানুষের উপর নজরদারি চালাতে...
কাবুল শহরে আক্ষরিক অর্থেই রাস্তার দু'হাত অন্তর সিসিটিভি লাগিয়েছে তালিবান প্রশাসন। নতুন নজরদারি নেটওয়ার্কে ৯০ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে কাবুল পুলিস। এর মাধ্যমে ৬০ লক্ষ মানুষের উপর নজরদারি চালাতে পারবে তারা। এপ্রসঙ্গে তালিবান পুলিসের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, 'আমরা এখান থেকে পুরো কাবুল শহরে নজরদারি করি। যদি কোনও সন্দেহজনক বা অপরাধীর খোঁজ পাওয়া যায়, তাহলে সেই খবর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের কাছে পৌঁছে যায়। সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে গাড়ির নম্বর প্লেট থেকে ব্যক্তির মুখের অভিব্যক্তি সবকিছুই ধরা পড়ে যায়। আমাদের চোখ এড়ায় না কোন কিছুই'।
কাবুল পুলিসের দাবি এই নজরদারি অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করবে বললেও সমালোচকদের আশঙ্কা এটি শরিয়ৎ আইনের কঠোর বিধি সবাই মানছে কিনা তা নজরদারি করার জন্যই তালেবানরা বসিয়েছে।
ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে মানুষজনকে ট্র্যাক করার বিকল্পও রয়েছে। পরিষ্কার দিনে, ১ কিলোমিটার দূরের ব্যক্তির ছবিও জুম করে দেখতে পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন, কাবুল পুলিসের মুখপাত্র খালিদ জাদরান৷
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আশঙ্কা জাতীয় নিরাপত্তার ছদ্মবেশে ক্যামেরা বসিয়ে আসলে তালেবানরা সাধারণ মানুষের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। যেগুলি আসলে তাদের কঠোর নীতিগুলি চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি হাতিয়ার। এই নজরদারি আসলে মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। বিশেষ করে পাবলিক প্লেসে মহিলাদের।
মহিলাদের আশঙ্কা এই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা আসলে মহিলারা হিজাব পরছেন কিনা তার উপরেই নজরদারি করার জন্য বসানো হয়েছে৷ মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, এবং প্রতিবাদকারীদের পরিচয় জানতেই এই ৯০ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালেবান প্রশাসন।
কাবুলের এক বাসিন্দার অভিযোগ 'তার বাড়ির কাছাকাছি ক্যামেরা বসানোর জন্য হাজার হাজার টাকা চেয়েছিল তালিবানরা। ক্যামেরা বসানো জন্য তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের তিন দিনের মধ্যে জল এবং বিদ্যুৎ কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। খরচ মেটানোর জন্য তাঁদের ঋণ নিতে হয়েছিল', বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাবুলবাসী বলেন 'মানুষ ক্ষুধার্ত, এই ক্যামেরাগুলিতে তাদের কী লাভ হবে?'
প্রসঙ্গত আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে সমস্ত ধরণের আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ। ফলে জীবন ধারণের জন্য খাদ্য জোগাড় করতেই নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ আফগানদের। রাষ্ট্রসংঘের হিসেবেই এখনই সাহায্যের প্রয়োজন অন্তত ৩ কোটি মানুষের। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি টাকা অর্থ ব্যয়ে তালিবান প্রশাসনের রাস্তার দু হাত অন্তর সিসিটিভি লাগানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সে প্রশ্ন প্রকাশ্যে তোলার সাহস কারো নেই।