বুধবার মার্কিন মুলুক থেকে ‘বিতাড়িত’ ২০৫ জন ভারতীয়কে নিয়ে অমৃতসরে পৌঁছেছে মার্কিন বায়ুসেনার বিমান। এর মধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ রাজীব শুক্ল দাবি করলেন, মোট ৭ লক্ষ ২৫ হাজার ভারতীয়কে ফেরাবে আমেরিকা। সমাজমাধ্...
বুধবার মার্কিন মুলুক থেকে ‘বিতাড়িত’ ২০৫ জন ভারতীয়কে নিয়ে অমৃতসরে পৌঁছেছে মার্কিন বায়ুসেনার বিমান। এর মধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ রাজীব শুক্ল দাবি করলেন, মোট ৭ লক্ষ ২৫ হাজার ভারতীয়কে ফেরাবে আমেরিকা। সমাজমাধ্যমে কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন, বিদেশ মন্ত্রকের একটি বৈঠকে থাকার সুবাদে এই তথ্য জানতে পেরেছেন তিনি।
বিমানে থাকা প্রতিটি নির্বাসিত ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় যাচাই করে কাস্টমস এবং বিদেশমন্ত্রক। এরপর আমেরিকায় থাকা আরও অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে পাঠানো হবে বলে সূত্রের খবর। এদিন কোনও রকম অশান্তি এড়াতে বিমানবন্দরে প্রচুর পরিমানে পুলিস মোতায়ন করা হয়েছিল। বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন দেশে ফেরা প্রবাসীদের আত্মীয় পরিজন। আরও প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয়কে ধাপে ধাপে ভারতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এদিন বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পঞ্জাব পুলিসের ডিরেক্টর জেনারেল গৌরব যাদব সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। বিদেশ দফতরের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নয়া দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের এক প্রতিনিধিও। বিমান বন্দরে অবৈধবাসী ভারতীয়দের জন্য খোলা হয়েছিল আলাদা কাউন্টারও। যাদের নামে কোনও অভিযোগ নেই ঘরে ফেরা সেই সব ভারতীয়দের গ্রেফতার করা হবে না বলে জানিয়েছ ভারত সরকার। তবে কারো নামে আমেরিকা বা ভারতে গুরুতর কোনও অভিযোগ পুলিসের কাছে থাকলে তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও মন্তব্য করছে সরকারের একটি সূত্র। তবে পঞ্জাবের প্রবাসী ভারতীয় বিষয়ক মন্ত্রী কুলদীপ সিং ঢালিয়াল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন 'অনেকেই বৈধ ভিসা এবং ওয়ার্কিং পারমিট নিয়ে বহু বছর আগে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। মার্কিন অর্থনীতিতে ওঁদের অবদান আছে। পরে হয়তো ওঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অনেকে আবার ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আবেদনও করেননি। আমেরিকার এই সব মানুষদের বৈধ নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত ছিল। এই বিষয়ে সামনের সপ্তাহে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলব'।
প্রসঙ্গত সামনের সপ্তাহেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামের সঙ্গে বৈঠক হবে তাঁর। ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে মোদীর প্রথম সফর। সেখানেও এই বিষয়টি উঠতে পারে বলে মত অনেক বিশেষজ্ঞের।উল্লেখ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্শিতে বসেই অবৈধ বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। মার্কিন সামরিক বিমান গুয়াতেমালা, পেরু এবং হন্ডুরাসে নির্বাসিত অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে বলেছেন ভারত যা সঠিক তা করবে। এই প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও জানিয়েছেন 'ভারত অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে, কারণ এটি বিভিন্ন ধরণের সংগঠিত অপরাধের সাথে যুক্ত। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বের যেকোন জায়গায়, যদি ভারতীয়রা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাস করেন এবং সেই দেশের সরকার যদি সে বিষয়ে প্রামান্য নথিপত্র দেয় তবে আমরা তাদের ফিরিয়ে নেব'। বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট এই ইস্যুতে এখনই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তিক্ততা সৃষ্টি করতে চাইছে না নয়াদিল্লি।