শুক্রবার রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় ধৃত বাকিবুর রহমানের জামিন মামলার শুনানি ছিল ইডির বিশেষ আদালতে। সেই শুনানিতে শুক্রবার ইডির তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বাকিবুর...
শুক্রবার রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় ধৃত বাকিবুর রহমানের জামিন মামলার শুনানি ছিল ইডির বিশেষ আদালতে। সেই শুনানিতে শুক্রবার ইডির তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বাকিবুর রহমানের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার শুনানি চলাকালীন বিচারক জানতে চান যে, ৬টি FIR দায়ের হয়েছিল, তাতে মোট কত জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে? কত টাকা পাওয়া গিয়েছে? আগেও প্রশ্ন করেছিলাম। আজও করলাম।
এর জবাবে ইডির আইনজীবী জানান, ৪২৫০ কুইন্টল রেশন সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। বাকিবুর রহমানের কোম্পানি NPG রাইস মিল থেকে ১০০০ কোটি টাকার দুর্নীতির হদিশ মিলেছে। পরবর্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন রাইস মিল থেকে আরও ৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির হদিশ পাওয়া যায়। গণবণ্টন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয়েই। এক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে যদি কোনও যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে সেটা আইনকে অবমাননা করা হয়। আমরা যতটা সম্ভব তদন্ত করেছি। নইলে সেটা সমাজের সঙ্গে অন্যায় করা হতো।
এই প্রেক্ষিতে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে বিচারক জানতে চান যে, আপনারা এই তদন্ত কি শুধু বয়ানের ভিত্তিতে করেছেন? এর উত্তরে ইডির তদন্তকারী আধিকারিক জানান, না। তিনি জানান, Short supply হয়েছিল। এই রেশন দুর্নীতি-কাণ্ডের মূল চক্রী বাকিবুর রহমান। রেশন বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং রাজ্যের উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতিদিনের আটার চাহিদা অত্যন্ত কম। তাই ১০০ কেজি আটা বিক্রি করতে গিয়ে যদি ২০ কেজি আটা পড়ে থাকে, তাহলে সেই আটা পুনর্ব্যবহার করা হতো। আবার নতুন ১০০ কেজির বস্তায় কুড়ি কেজি পুরনো আটা থাকত এবং ৬০ কেজি থাকত নতুন আটা। এভাবেই ১০০ কেজির বস্তায় ৮০ কেজি আটা বেচা হতো। সুতরাং সেক্ষেত্রে কুড়ি কেজি যেমন কম দেওয়া হল, তেমনি কুড়ি কেজি পুরনো আটা পুনর্ব্যবহারের ফলে গম ভাঙানোর খরচও বেচে গেল। এভাবেই রেশন বণ্টন দুর্নীতিটি দুটি ধাপে করা হয়েছিল।
শুনানি চলাকালীন ইডির আইনজীবী আদালতে জানান, এই মামলায় তদন্ত কীভাবে হয়েছে, তা একটি ডায়াগ্রাম-এর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিটি ধাপে ধাপে হয়েছে। আগামী ২৬ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন ইডিকে এই সংক্রান্ত মামলার জবাব লিখিত আকারে আদালতে জমা দিতে হবে।