আরজি কর যেন দুর্নীতির আখরা। আরজি করের ভয়ঙ্কর দুর্নীতির কথা আগেই সামনে এনেছেন হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার আখতার আলি। আরজি কর কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের নাম জড়াতেই মুখ খোলেন আরজি করের প্রাক্তন সুপার আখতার আলি।...
আরজি কর যেন দুর্নীতির আখরা। আরজি করের ভয়ঙ্কর দুর্নীতির কথা আগেই সামনে এনেছেন হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার আখতার আলি। আরজি কর কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের নাম জড়াতেই মুখ খোলেন আরজি করের প্রাক্তন সুপার আখতার আলি। আর্থিক দুর্নীতির যোগ থাকলে সিবিআই ইডিকে হস্তান্তর করতে পারে। এরপরই আখতার আলির করা কতগুলি অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখছে সিবিআই। আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগের পর রবিবার সকাল থেকে সরেজমিনে সিবিআই। মূলত ১৫টি দুর্নীতির প্যাঁচে নজর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।
সরকারের সম্পত্তি, স্বাস্থ্য ভবন এবং কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনকে দেওয়ার অভিযোগ করেন আলি। ফুড স্টল, ক্যাফে, ক্যান্টিনের মতো জায়গা টেন্ডার না ডেকেই বণ্টন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে সরবরাহকারীদের কাজের বরাত দেওয়ার বিষয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে তিন জন সরবরাহকারীর নামও করেছেন আখতার। বিপ্লব সিংহ ছাড়াও নাম করা হয়েছে সুমন হাজরা এবং আফসর খানের। কোটি কোটি টাকার কাজের বরাত গুটিকয়েক নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই দেওয়া হত। তাঁদের বরাত পাওয়ার যোগ্যতা নেই বলেও অভিযোগ।
আখতার আলি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং বৈদ্যুতিক বিভিন্ন কাজ রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরকে দিয়ে করাতো না বলেও অভিযোগ করেন আরজি করের প্রাক্তন সুপার। ওই কাজের জন্য বরাত দেওয়া হয় বাইরের সংস্থাকে। হাসপাতালের মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা সংক্রান্ত কাজের জন্য বরাদ্দ টাকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ। এমন কি হাসপাতালের জৈব বর্জ্য বা ‘বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট’ বেআইনি ভাবে বাইরে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে আর্থিক লেনদেন চলত বলে জানান আখতার। আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য বেআইনি ভাবে হাসপাতালের মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসের (এমইএস) আধিকারিকদের বদলি। এই কাজের সঙ্গে আরজি করের মেডিক্যাল এডুকেশন প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর তনুশ্রী মণ্ডলও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আখতার। এখন প্রশ্ন দিনের পর দিন এই অভিযোগগুলি একাধিক দফতরে পাঠিয়েও কেন চোখে পড়ল না আধিকারিকদের? সমস্ত প্রশ্নের তহবিল আপাতত সিবিআইয়ের হাতে।
উল্লেখ্য, আরজি করে আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাতে রাজ্য সরকারের গঠন করা সিট খারিজ করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আরজি কর-এর প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ইডি তদন্তের দাবিতে হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আক্তার আলি গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বিচারপতির। আর্থিক দুর্নীতির যোগ থাকলে সিবিআই ইডিকে হস্তান্তর করতে পারে।