আমার যেমন বেণী তেমনি রবে, চুল ভিজাব না। জলে নামবো জল ছড়াব, জল তো ছোঁব না। মঙ্গলবার অপর্ণা সেন। বুধবার নচিকেতা চক্রবর্তী। অবশেষে সুর চড়ালেন বুদ্ধিজীবীরা। সুকৌশলে প্রতিবাদের একেবারে গা ছুঁয়ে গেলেন এই ...
আমার যেমন বেণী তেমনি রবে, চুল ভিজাব না। জলে নামবো জল ছড়াব, জল তো ছোঁব না। মঙ্গলবার অপর্ণা সেন। বুধবার নচিকেতা চক্রবর্তী। অবশেষে সুর চড়ালেন বুদ্ধিজীবীরা। সুকৌশলে প্রতিবাদের একেবারে গা ছুঁয়ে গেলেন এই বাংলার তথাকথিত দুই বিদ্বজন। আরজি কর কাণ্ডে এবার কবিতার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন সঙ্গীত শিল্পী নচিকেতা। কী ছিল সেই কবিতায়?
ফেসবুকে নিজের লেখা একটি কবিতা পাঠ করেন সঙ্গীতশিল্পী। ক্যাপশনে লেখেন, 'আমার প্রতিবাদ'। আরও একবার প্রতিবাদের আগুন ঝরল তাঁর কলমে। নচিকেতা পাঠ করেন, "মা তুমি এসো না, মা দুর্গা তুমি এসো না। এই পৃথিবী আমাদেরই বাসযোগ্য নেই, তোমার হবে কী করে? এখানে ধর্ষিত হয় মানবতা, মানুষ হারিয়ে গভীরতা, নারী সম্মান পথের ধুলোয়, প্রহসন নারী স্বাধীনতা!" শিল্পীর... মুখে আরও শোনা যায়, "মা তুমি এসো না,মা তুমি এসো না… পারব না দিতে সম্মান। মেয়েকই দিতে পারিনি! মা এসো না। লক্ষ টাকা খরচ করে তোমায় সাজাই, আরও কত লক্ষ টাকা.. বসন-ভূষণ। এদিকে আমার মেয়ে বসনহীন হাসপাতালে, আকাশ-বাতাস কালো করে ঘৃণার দূষণ। মা তুমি এসো না…এই বিচারবিহীন পৃথিবীতে। তুমি এসোই না।"
কবিতার ভাষায় ধর্ষণ, ধর্ষক ও মা দুর্গা ইত্যাদি শব্দের বারেবারে উচ্চারণ। অথচ, কোথাও সরকার অথবা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খরচ করলেন কি একটিও শব্দ? না। অবশ্য তার কারণ অন্তর্নিহিত গত ১৫ বছরের ঘটনাশৈলিতে। বাম জমানায়, কখনও আদিত্য সেন। কখনও বা তোকে মন্ত্রী বানাবোর মতো নচিকেতার বিদ্রোহী গানে গা সেঁকেছিল আপামর বাংলা। বাম জমানার একেবারে শেষের দিকে প্রতিবাদী বিরোধী নেত্রীর হয়ে মঞ্চেও তাঁকে দেখা গিয়েছে বারেবারে। ২০০৯ থেকে ২০২৪। দীর্ঘ ১৫ বছর। ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চে তিনি বরাবরই থাকেন উপস্থিত। ২০১১ সালের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যেন মিইয়ে যায় বিদ্রোহী সঙ্গীতশিল্পীর ঝড়। কিন্তু কেন? তিনি তো বিদ্রোহী। তিনি তো পালাবদলের জীবন্ত সাক্ষী। তারপরও কেন থেমে তাঁর কলম? কেন কামদুনি অথবা পার্ক স্ট্রীটে নীরব তাঁর বিদ্রোহী স্বত্তা? তাঁর উত্তরও মিলেছে ছবিতে ছবিতে। চলতি বছরেই মহানায়ক উত্তমকুমারের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর হাতে ‘মহানায়ক’ সম্মান তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এবারে আর চুপ থাকতে পারলেন না বোধ হয়। তাই সুকৌশলে রাজনীতি না ছুঁয়ে চলে গেলেন ধর্ষণের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে। ধর্ষণ পুরুষতন্ত্রের অস্ত্র বটে। তবে তাতে যে লেগেই রয়েছে রাজনীতির রঙ। যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে সরকার স্বয়ং। ধর্ষণকে আত্মহত্যা বলে লঘু করার প্রয়াস দেখেছে রাজ্য। দেখেছে কীভাবে সঞ্জয়ের মতো অভিযুক্তকে সামনে দাঁড় করিয়ে লুকোনোর চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই আবহে দাঁড়িয়েও ধর্ষণকে রাজনীতির পরিসরে আনার সাহস নেই এ রাজ্যের বিদ্বজনেদের? কবির কথায় মা দুর্গাকে তিনি বারেবারে এ পৃথিবীতে না আসার কথা বলছেন। এ রাজ্যের মাটি এতটাই দূষণে ভরপুর, যে সেখানে যেন না আসেন মা। বলছেন তিনি। তবে কি এ রাজ্য জানোয়ারদের বিচরণ ক্ষেত্র, সে কথাই প্রমাণ করলেন তিনি? আপামর বাঙালির প্রশ্ন, তবে কি বয়স হচ্ছে নচিকেতার? ভোঁতা হচ্ছে তাঁর কলম?