মুখ্যমন্ত্রীর লেখা একটি কবিতা পাঠ করে বাজেট ঘোষণা শেষ করলেন চন্দ্রিমা। কবিতা পাঠের মাঝে শুভেন্দুর 'এপাং ওপাং' বলে খোঁচা। 'চুপ করে শুনুন' পাল্টা ধমক চন্দ্রিমার।
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মোট ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আনা হবে 'গিগ ইকোনমির' সঙ্গে জড়িতদের।
বাড়ল শিক্ষাবন্ধুদেরও ভাতা। ১০০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা বাজেটে।
নতুন প্রকল্প ঘোষণা অন্তর্বর্তী বাজেটে। পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্প চালু করার আশ্বাস। যার মাধ্যমে ২১-৪০ বছর বয়েসীদের মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
সিভিক ভলান্টিয়ার এবং গ্রিন পুলিসদের বেতন বৃদ্ধি হল ১০ হাজার টাকা। তার জন্য মোট ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়কদের মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লাখ ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও অন্তর্বর্তী বাজেটে। তার জন্য মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বারুইপুরে 'কালচার সিটি' তৈরির ঘোষণা। এছাড়াও রাজ্যে ছটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক করিডোর তৈরি হবে। এছাড়াও ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্পের জন্য পাঁচটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কও তৈরি হবে।
অন্তর্বর্তী বাজেট হাতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এই বছরের বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল।
বাড়ল আশাকর্মীদের ভাতাও। ১০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হল ভাতা।
ভোটের আগে বাড়ল 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের মাসিক ভাতা। ৫০০ টাকা ভাতা বাড়ানো হল উপভোক্তাদের জন্য। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে এই ঘোষণা।
বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য।
দুপুর আড়াইটে নাগাদ অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা শুরু করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
'বাংলা দখলের কথা ভাববেন না। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কী অবস্থা দেখা যাচ্ছে। আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো আছেন, জিরোই থাকবেন। জেনে রাখুন, অনেক সিট হারাবেন'-শুভেন্দুকে নিশানায় নিয়ে মন্তব্য মমতার।
বিধানসভায় বক্তব্য শেষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রের বঞ্চনা তুলে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী,-'বহু সাইক্লোন হয়েছে। রাজ্যে বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। কেন্দ্র সরকার এক পয়সাও দেয়নি।'
'একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন?' অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সরব মমতা। তাঁর সংযোজন, '২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন।'
শুভেন্দুর মন্তব্যের পাল্টা প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর, 'অনুপ্রবেশের কথা মাথায় ঢুকেছে। বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? আপনার প্রতিবাদ করা উচিত ছিল না যখন পরিযায়ী শ্রমিকদের মারা হচ্ছে?'
অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে খোঁচা শুভেন্দুর। অনুপ্রবেশ সমস্যায় ডেমোগ্রাফি বদল হচ্ছে। ৮ বার স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়েছেন সীমান্তে বেড়া দিতে জমি চেয়ে। কাঁটাতার দেওয়া যায়নি জমি সমস্যার কারণে।'
SIR নিয়ে বিতর্ক করা যাবে না বিধানসভায়। স্পিকার জানান, সরকার পক্ষ থেকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী বলবেন। বিরোধী দলনেতাকে ১০ মিনিট দেওয়া হয়েছে বক্তব্য রাখার জন্য। 'সময় না দিলেই পারত' কটাক্ষ শুভেন্দুর।
অধিবেশনে কারা বক্তৃতা করবেন, তার তালিকা নেই কেন? স্পিকার লিস্ট নিয়ে প্রশ্ন শুভেন্দুর।
রাজ্যপালকে দিয়ে জোর করে অসত্য ভাষণ পাঠ করাতে পারেনি রাজ্য, মন্তব্য বিরোধী দলের নেতৃত্বদের।
রাজ্যপালের অসম্পূর্ন ভাষণ পাঠ নিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'বিধানসভায় বক্তৃতার সময়ে রাজ্যপাল পুরো ভাষণ পাঠ করেননি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জায়গায় তিনি আটকে যান। কারণ, বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী লেখা পড়তে চাননি। তাই মাত্র সাড়ে চার মিনিটে তিনি বক্তৃতা শেষ করেছেন।'
SIR সংঘাতে বিতর্ক বাড়ছে বিধানসভায়। 'অনুপ্রবেশেকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার', খোঁচা বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের।
SIR সংক্রান্ত বিষয়ে বিধানসভায় আলোচনার সম্মতি দিলেন না স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই বিধানসভায় এই বিষয়ে আলোচনা করা যাবে না।
রাজ্য়পালের বক্তৃতা শেষে ফের বসল অধিবেশন। SIR সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব আনেন শোভনদেব ভট্টাচার্য। সমর্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যপাল বিধানসভা থেকে যাওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন স্পিকারও। বাজেট পেশের আগে দুপুর ১ টা থেকে ২টো পর্যন্ত SIR সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করার জন্য সময় ধার্য করা হয়েছে।
বাজেট পেশের আগেই স্লোগানের লড়াই বিধানসভায়। জাতীয় সঙ্গীত শেষ হতেই 'ভারত মাতা কী জয়' স্লোগান শুভেন্দুদের। স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানের মাঝেই বিধানসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা শেষ করেন রাজ্যপাল।
বিধানসভায় সংক্ষেপেই বাজেট বক্তৃতা শেষ করলেন রাজ্যপাল। বক্তৃতা শেষে হাতে হাত ধরে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে।
দুপুর পৌনে একটা নাগাদ বিধানসভায় এসে পৌঁছোলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপর আম্বেদকার মূর্তিতে মাল্যদান করলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নতুন করে রাজ্যের কাঁধে পড়েছে ডিএ পরিশোধের চাপ। সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ'র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বাকি ৭৫ শতাংশ মেটানোর জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন হবে, যার নেতৃত্বে থাকবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। ওই কমিটি ঠিক করবে কীভাবে কতগুলো কিস্তিতে বাকি বকেয়া শোধ করবে রাজ্য। ফলে আজ বাজেট ঘোষণায় বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা থাকে কিনা, সে দিকেও নজর থাকবে।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর থেকেই তৃণমূলের ঝুলিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে মহিলা ভোটারদের সমর্থনও। এমতাবস্থায় ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে এই প্রকল্পের ভাতার অঙ্ক বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ফলে বৃহস্পতির লক্ষ্মীবারে, লক্ষ্মীলাভ হওয়ার সম্ভবনায় প্রহর গুনছে রাজ্য।
নজরে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্টস) পেশ করবে তৃণমূল সরকার। আর এই বাজেটে রাজ্যের আমজনতার জন্য নতুন কিছু ঘোষণা থাকবে কিনা, তা জানতে ইতিমধ্যেই বাড়ছে কৌতূহল। তবে বিধানসভা নির্বাচনের অঙ্ক কষেই যে এবারের বাজেট ঘোষিত হবে, তা একপ্রকার বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি এবারের বাজেটে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের' মত জনমুখী প্রকল্পের ভাতা বাড়বে কিনা, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।