ধন্য ভারতবর্ষ। এখানে বিসমিল্লার সানাইয়ে ঘুম ভাঙে বিশ্বনাথের। এখানে শ্যামা মায়ের গানে চোখের জলে বুক ভাষায় কাজী কবি। এখানে কবীরের দোহায় ঈশ্বরকে খুঁজে পান কত হিন্দু। ধর্ম এখানে শুধু ধারণ করার জন্য, বিচ্ছ...
ধন্য ভারতবর্ষ। এখানে বিসমিল্লার সানাইয়ে ঘুম ভাঙে বিশ্বনাথের। এখানে শ্যামা মায়ের গানে চোখের জলে বুক ভাষায় কাজী কবি। এখানে কবীরের দোহায় ঈশ্বরকে খুঁজে পান কত হিন্দু। ধর্ম এখানে শুধু ধারণ করার জন্য, বিচ্ছিন্নতাবাদী উস্কানি নয়। আমরা অনেকেই জানি না, ইসলাম ধর্মের সার প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন একজন বাঙালী, নাম গিরিশচন্দ্র সেন। পরিবারে ফার্সি চর্চা ছিল। পূর্বপুরুষ ছিলেন আলিবর্দি খাঁর দেওয়ান। প্রথমে ফার্সি তারপর সংস্কৃত ভাষায় জ্ঞান অর্জন করেন। স্কুলে পণ্ডিতের চাকরিও নেন। মহিলাদের জন্য খোলেন অবৈতনিক কলেজও। প্রথমে ফার্সি ভাষায় শেখ শাদির গোলস্তান বাংলায় অনুবাদ করেন।

এরপরে জীবনে নেমে এল বিপর্যয়। হঠাৎই মারা গেলেন স্ত্রী ও কন্যা। শান্তির খোঁজে ব্রাহ্ম ধর্মের আশ্রয় নিলেন গিরিশচন্দ্র। লখনউ গিয়ে শিখতে শুরু করলেন আরবি ভাষা। ইতিমধ্যে কেশব সেনের ইচ্ছেয় শুরু করলেন ইসলাম ধর্মচর্চা। তখনই শুরু করলেন কোরান শরিফের অনুবাদ। ১৮৮১ সালে অনুবাদ শুরু করেন। শেষ করতে সময় লাগে ৬ বছর। বারো খণ্ডে প্রকাশ পায় কোরানের বাংলা অনুবাদ। নিজে ইসলাম ধর্মাবলম্বী না হওয়ার সংকোচে প্রথম খণ্ডে অনুবাদক হিসেবে নিজের নাম দেননি। কিন্তু অসংখ্য বাঙালি মুসলিম আছেন যারা উর্দু ভাষা জানতেন না। তারাও নিজের ভাষায় কোরান পড়ার সুযোগ পেলেন। মাথায় তুলে নিলেন গিরিশচন্দ্রকে। কোরানের এই অনুবাদকে প্যাট্রিওটিক এফোর্ট বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন মুসলিম সমাজ। এতো গেল গিরিশচন্দ্র সেনের গল্প।
এবার পরিচয় করা যাক মরিয়ম আসিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে। নামেই পরিস্কার তিনি ইসলাম ধর্মাবলম্বী। যখন মরিয়মের বয়স মাত্র বারো বছর। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস বা ইসকন আয়োজিত ভগবত গীতার জ্ঞান পরীক্ষায় মহারাষ্ট্রের ১৯৫ টি স্কুলের ৪০০০ পড়ুয়ার মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন মরিয়ম। মরিয়মের এই কৃতিত্ব অবাক করেছিল নরেন্দ্র মোদিকে। তিনি নিজে দেখা করেছিলেন মরিয়মের সঙ্গে। বিভিন্ন ধর্মের ওপর পাঁচটি বই তাঁকে উপহার দেন। পুরস্কারের অর্থ মরিয়ম দান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্পে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এর থেকে ভালো ছবি আর কোথায় দেখা যাবে? ধন্য ভারতবর্ষ, ধন্য ভারতবাসী।
