আশঙ্কা আর সম্ভাবনা দুটি শব্দ দু'ভাবে ব্যবহার হয় । যেমন ধরা যাক বৃষ্টির সম্ভাবনা, কিন্তু বন্যার আশঙ্কা। পুলিসকে ঝাঁকুনি কি সম্ভাবনা নাকি আশঙ্কা? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। পুলিসের দায়িত্ব বরাবরই ...
আশঙ্কা আর সম্ভাবনা দুটি শব্দ দু'ভাবে ব্যবহার হয় । যেমন ধরা যাক বৃষ্টির সম্ভাবনা, কিন্তু বন্যার আশঙ্কা। পুলিসকে ঝাঁকুনি কি সম্ভাবনা নাকি আশঙ্কা? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। পুলিসের দায়িত্ব বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেখেছেন নিজের হাতে। ভোটের পর পুলিসকে পুরস্কার করেছেন, ২০২৪ এর দুর্গাপুজো উদ্বোধনে আলিপুর বডিগার্ড লাইনসে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মমতার পুলিসকে ভোকাল টনিক, 'রাজা চলে বাজার কুত্তা ভকে হাজার'। কিন্তু সিঁদুরে মেঘটা দেখা গিয়েছিল তখনই। আরজি করের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল টালা থানার তৎকালীন ওসিকে। জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে তৎকালীন পুলিস কমিশনার বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবুও যেন ক্ষোভ কমছিল না।
আরজি কর ঘটনায় পুলিশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছিল বারবার। ওই সময়েই বাঁশদ্রোণীতে বেপরোয়া জেসিবিতে ছাত্রের মৃত্যু ঘটনায় রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখাতে পাটুলি থানার ওসিকে কাদা জলে নামিয়েছিলেন স্থানীয়রা। সন্দেশখালিতেও সাধারণের হাতে নিগৃহীত হয় পুলিস। পুলিস মন্ত্রী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনিই বা স্বস্তিতে থাকেন কীভাবে? এরই মধ্যে কলকাতার কসবায় তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের উপর দুস্কৃতি হামলা। পুলিসের ভূমিকায় সরব হয়েছিলেন খোদ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির পুলিস সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিস মন্ত্রী করার দাবি জানান।
প্রশ্ন উঠতে থাকে হুমায়ুনের ঠোঁটে এ কার বক্তব্য? ঝাঁকুনি দেওয়া শুরু হল। সিআইডির খোলনলচে বদলে দেবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা। সেই ঘোষণা মত গত বছরের নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে রদবদল পুলিসের একাধিক শীর্ষপদে। কিন্তু ঝাঁকুনি এখানেই শেষ নয়। নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে বারবার পুলিসমন্ত্রীর তোপের মুখে রাজ্য পুলিস। আইবির অপদার্থতা নিয়েও তোপ দেগেছেন মমতা। তিনি বললেন পুলিসে কোনও লবি বরদাস্ত করবেন না। তার একটা অর্থ হল পুলিসে লবি আছে । লবির গুহাপথে নিজেদের উন্নয়ন আছে। স্বজন পোষণ ক্রনিক অসুখের মত বাসা বেঁধেছে পুলিস বাহিনীর মজ্জায় মজ্জায়। এই লবির মাথায় কে? সঠিক ভাবে বলা না গেলেও ইঙ্গীত তো একটা মিলেছেই। লাল যুগেও দলের তরফে পুলিসের দেখাশোনা করার ভার থাকত কোনও না কোনও নেতার ওপর। এমনটা জল্পনা কিন্তু আজকের নয়। তবে এখনও হয়তো প্রযোজ্য। জমি জবরদখল, বিএসএফ এর সঙ্গে অবৈধ আঁতাত, বালি-মাটি-পাথর পাচার কাণ্ড... সর্বত্র পুলিসকে নিশানায় রাখার পাশাপাশি বিরোধীদের অভিযোগগুলিকে বৈধতা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিন্দুকে বলতে পারে এ সবই ঝি কে মেরে বউ কে শেখানো। আশঙ্কা আর সম্ভাবনার মধ্যে পার্থক্য তো থাকবেই।