ফেলুদার গল্পে জটায়ু ওরফে লালমোহন গাঙ্গুলীর প্রথম আগমনের পরে পর পর বেশ কয়েকটি গল্পে তাঁর চেহারা ঠিক কেমন হবে এই নিয়ে বেশ সংশয়ে ছিলেন সত্যজিৎ রায়। ফলে সোনার কেল্লা, বাক্স রহস্য, রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য, কৈল...
ফেলুদার গল্পে জটায়ু ওরফে লালমোহন গাঙ্গুলীর প্রথম আগমনের পরে পর পর বেশ কয়েকটি গল্পে তাঁর চেহারা ঠিক কেমন হবে এই নিয়ে বেশ সংশয়ে ছিলেন সত্যজিৎ রায়। ফলে সোনার কেল্লা, বাক্স রহস্য, রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য, কৈলাসে কেলেঙ্কারি ইত্যাদি গল্পের ইলাসট্রেশনে বার বার পাল্টাতে থাকে জটায়ুর চেহারা। এমনকি আজ যে ব্যাপারটা ছাড়া জটায়ুকে কল্পনা করা যায় না, সেই মাথা জোড়া টাক প্রথম দিকের ইলাসট্রেশনে লক্ষণীয় ভাবে অনুপস্থিত। কিন্তু সোনার কেল্লা অবলম্বনে যখন চলচ্চিত্র তৈরি করলেন সত্যজিৎ এবং জটায়ুর ভুমিকায় কাস্ট করলেন অভিনেতা সন্তোষ দত্ত কে, তার পরে জটায়ুর ব্যাপারটাই বদলে গেল চিরকালের মত। সন্তোষ দত্তর উপস্থিতি এবং অভিনয় স্বয়ং জটায়ুর স্রষ্টাকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে জয় বাবা ফেলুনাথ উপন্যাস থেকে সত্যজিতের ইলাসট্রেশনেও জটায়ুর চেহারা হয়ে গেল একেবারে অভিনেতা সন্তোষ দত্তর মত। আর বোম্বাইয়ের বোম্বেটে গল্পে তো সান্ধ্য কাগজে জটায়ুর চেহারার যে বর্ণনা ছাপা হল, অর্থাৎ বল্ড, মুসট্যাচ ইত্যাদি আসলে অভিনেতা সন্তোষ দত্তরই চেহারার বর্ণনা। তাই তাঁর মৃত্যুর পরে সত্যজিৎ রায় ফেলুদাকে নিয়ে ছবি করাই বন্ধ করে দেন কেবল এই ভেবে যে জটায়ুর চরিত্রে আর কাউকেই সন্তোষ দত্তর মত মানাবে না।
পরবর্তী কালে যখন সন্দীপ রায় ফেলুদার ছবি তৈরি করা শুরু করেন সেখানেও জটায়ুর চরিত্রের জন্য উপযুক্ত অভিনেতা খোঁজা হয়েছে ওই সন্তোষ দত্তর কথা মনে রেখেই। কারন কে ভালো ফেলুদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় না সব্যসাচী চক্রবর্তী এই নিয়ে ভিন্ন প্রজন্মের ফেলুদা ভক্তদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সর্বকালের সেরা জটায়ু যে সন্তোষ দত্ত এই বিষয়ে সকলেই একমত। একজন অভিনেতার চেহারা বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্রের চেহারাকে নতুন করে ডিফাইন করছে এমন ঘটনা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে আর ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই, কিন্তু বাঙ্গালীর মননে চিরস্থায়ী ভাবে জটায়ু মানেই সন্তোষ দত্ত আর সন্তোষ দত্ত মানেই জটায়ু । ৯৯ বছরে পড়লেন জটায়ু।
- দেবরাজ গোস্বামী-র কলমে