পাম অ্যাভিনিউয়ের প্রিয় দু'কামরার ফ্ল্যাট, অগুণতি বই, প্রিয় সাদা গাড়ি ছেড়ে অনন্তের পথে বুদ্ধদেব বাবু। বামফ্রন্টের শেষ সেনাপতিকে দলীয় পতাকায় মুড়ে শেষ বারের মতো বাড়ি থেকে বার করা হল। দলীয় স্লোগ...
পাম অ্যাভিনিউয়ের প্রিয় দু'কামরার ফ্ল্যাট, অগুণতি বই, প্রিয় সাদা গাড়ি ছেড়ে অনন্তের পথে বুদ্ধদেব বাবু। বামফ্রন্টের শেষ সেনাপতিকে দলীয় পতাকায় মুড়ে শেষ বারের মতো বাড়ি থেকে বার করা হল। দলীয় স্লোগান, পতাকায় বুদ্ধদেব বাবুর শববাহী শকেট রওনা দিল পিস ওয়ার্ল্ডের উদ্দেশ্যে। স্লোগান দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শেষযাত্রায় হাঁটলেন কয়েকশ কমরেড।
বরাবরই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে ভালোবাসতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু শেষে বেলায় তাঁর সেই ইচ্ছা মেটানো গেল না। অসংখ্য অনুগামী হাঁটছেন বুদ্ধবাবুর শববাহী শকেটের পিছনে। প্রত্যেক যুদ্ধের একমাত্র সহ সঙ্গিনী বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্য হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছিলেন সেই শকটের পিছনে। শববাহী শকেটের কাঁচের আড়ালে শেষবাড়ের মতো দেখা গেল প্রয়াত নেতার মুখ। সেই মোটা ফ্রেমের চশমা। থুতনিতে কিছুদিনের না কামানো দাড়ি। ভরাক্রান্ত সকল বামপন্থী সমর্থক। অভিভাবক হারানোর হতাশা যেন চোখে মুখে ফুটেছে কমরেডদের। সকলেই এগিয়ে চললেন দেখে মনে হয় বুদ্ধবাবুর দেখান পথে হাটছে একটা সংযমী সম্প্রদায়।
পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাট থেকে বেরোনর আগে তাঁর মরদেহের চক্ষু থেকে কর্নিয়া সংগ্রহের প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে পরিকল্পনা মতো। বৃহস্পতিবার পিস ওয়ার্ল্ডেই রাখা থাকবে বুদ্ধদেবর নশ্বর দেহ। শুক্রবার সকাল ১১টায় সেখান থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রাজ্য বিধানসভায়। সেখান থেকে বেলা ১২টা নাগাদ দেহ নিয়ে আসা হবে সিপিএমের রাজ্য দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। সেখানেই মরদেহ শায়িত থাকবে বিকাল ৪টে পর্যন্ত। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে পরে মিছিল করে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়ালদহের এনআরএস হাসপাতালে। সেখানেই বুদ্ধদেবের দেহ দান করা হবে ভবিষ্যতের চিকিৎসার গবেষণার কাজে।