বঙ্গে দলে মহাবিপর্যয়ের পর তৃণমূলের পরিষদীয় দল হাত-ছাড়া হয়েছে তাঁর। দলের সংসদীয় দলের ২০ জন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগ দিয়েছে। কিন্তু তাতে কী? আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষে...
বঙ্গে দলে মহাবিপর্যয়ের পর তৃণমূলের পরিষদীয় দল হাত-ছাড়া হয়েছে তাঁর। দলের সংসদীয় দলের ২০ জন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগ দিয়েছে। কিন্তু তাতে কী? আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যস্ততা বেড়েছে বই কমেনি। একেবারে টাইট শিডিউল। আজ সিআইডি, কাল ইডি, পরশু আবার সিআইডি। আকবরের সেনাপতি মান সিং-এর থেকেও ব্যস্ততা বেশি তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র মুখোমুখি হতে এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গুটি-গুটি পায়ে অভিষেক রওনা দিলেন সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে। ঘরের বাইরে বেরোলেই এখন রোদের হলকা, অগত্যা গাড়িতে চেপে বসলেন। নিজের জেড-সিকিউরিটি আগেই উঠে গেছে। এদিন দেখা গেল, সেনাপতি আসবেন বলে সিজিও-তেও বাড়তি কোনও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, সেই অভিযোগ যে সর্বৈব সত্য, তা মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এসএসসি-তে চাকরি গিয়েছে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। প্রাথমিকে ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে। এই দুর্নীতিতে শুধু যে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েছে, তা নয়। ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ও তাঁর ‘সাহেব’ অভিষেকের নামও জড়িয়েছে। এবং, সেই মামলার তদন্তে নেমে ইডি ও সিবিআই প্রভাবশালী-যোগ খুঁজে পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে একাধিকবার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কখনও কলকাতায়, কখনও-বা দিল্লিতে। এদিকে, বাংলায় পালাবদলের পর, বিধায়কদের সই জালিয়াতির তদন্তে নেমে অভিষেককে ঘন-ঘন ডেকে পাঠিয়েছে সিআইডি-ও। পরপর তিনবার তলবি নোটিস পেয়েও ভবানীভবনমুখী হননি অভিষেক। অবশেষে, কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আর্জি করলে অভিষেকের আইনজীবীকে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তে সহযোগিতা করতেই হবে। এবং, সেই সঙ্গে অল্প কিছুদিনের জন্য রক্ষাকবচ দেওয়া হয় তাঁকে। এমতাবস্থায়, গত সপ্তাহে দুদিন সিআইডি-র ম্যারাথন জেরার মুখে পড়তে হয় অভিষেককে। এখানেই শেষ নয়। সিআইডি আবার তলবি নোটিস পাটিয়ে মঙ্গলবার ডেকে পাঠিয়েছে অভিষেককে।
এদিকে, অভিষেকের ডান-হাত বলে পরিচিত জনৈক সুমিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, শালবনিতে তিনি জমি জালিয়াতি করে অনেককে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছেন। সেই তদন্তে দিনকয়েক আগে ভোরের আলো ফুটতে-না-ফুটতেই শালবনি থেকে কালীঘাটে হাজির হয়েছে পুলিস। তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি অভিযান চলেছে।
এখানেই শেষ নয়। নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকের ডিজে-হুমকি নিয়ে সম্প্রতি বিধাননগর পুলিসের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর তদন্ত শুরু হয়। এমনকি, কয়েকবছর আগে ত্রিপুরায় ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য সেখানকার খোয়াই থানাও নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে।
নোটিসের-পর-নোটিস। সত্যিই বড় টাইট শিডিউল অভিষেকের। এদিন সিজিও-তে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ কতক্ষণ চলে, ম্যারাথন নাকি সেমি ম্যারাথন, আপাতত সেদিকেই নজর পর্যবেক্ষকদের।