চারিদিকে মাটির দেওয়াল, ওপরে টালির চালা। সম্বল বলতে এইটুকুই। কোনরকমে আশপাশের মানুষের সাহায্যে নিয়ে দিন গুজরান হয় নাতনি ও দিদার। প্রবল অর্থের অভাবে তাই চিকিৎসা করানো হয়নি নাতনির মাথার অসুখের। অগত্যা মান...
চারিদিকে মাটির দেওয়াল, ওপরে টালির চালা। সম্বল বলতে এইটুকুই। কোনরকমে আশপাশের মানুষের সাহায্যে নিয়ে দিন গুজরান হয় নাতনি ও দিদার। প্রবল অর্থের অভাবে তাই চিকিৎসা করানো হয়নি নাতনির মাথার অসুখের। অগত্যা মানসিক ভারসাম্যহীন নাতনির পায়ে লোহার শিকল পড়িয়ে রেখেই দু-বেলা দু-মুঠো অন্য জোগাড়ে বেরোতে হয় অসহায় দিদাকে।
মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নাবালিকার নাম ময়না খাতুন। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের ইন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতে বাসিন্দা সে। জন্মের পর থেকেই বোঝা যায় সে আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মত নয়। বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জীবনের সঙ্গে ময়নার অসম লড়াই। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, ময়নার মা-বাবা দুজনেই ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। তাই এই বৃদ্ধ বয়সে এসেও মানসিক ভারসাম্যহীন নাতনির দেখভাল করতে হয় ময়নার দিদাকে। সেইসঙ্গে দোসর হয়েছে অর্থাভাব। আর সেই কারণেই একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় দিন কাটছে ময়নার।
অনেকসময় শিকলে বেঁধে রাখলেও বাইরে বেরিয়ে যায় ময়না। তাকে প্রায়ই টেনে হিঁচড়ে বাড়িতে আনতে হয় তাঁর দিদার। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে ময়নার দিদা নুরনেহা বিবি জানিয়েছেন,'জন্মের পর থেকে একটু একটু করে নাতনি মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে। ময়নার বাব-মা দুই বছর বয়সে ওকে ফেলে চলে যায়। মাঝে মধ্যেই এদিক ওদিক চলে যায় বলে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। চালা ঘরে থাকি রেশনের চাল আর ভিক্ষা করে আমাদের পেট চলে। এলাকার মানুষজন সাহায্য করে। আর্থিক অভাব থাকায় নাতনির চিকিৎসা করাতে পারি না।' আর এখানেই যে প্রশ্নটা দাগ কেটে যাচ্ছে এই দুর্দশার কী সত্যি কোন অন্ত নেই? দারিদ্রতার এই গোলকধাঁধা থেকে সাধারণের মুক্তি মিলবে কবে?