বীরভূমের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মালদায় পুলিসের মেগা স্ট্রাইক। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা পুলিসের স্পেশাল অপারেশন টিম যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ পাচার সিন্ডিকেট। ...
বীরভূমের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মালদায় পুলিসের মেগা স্ট্রাইক। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা পুলিসের স্পেশাল অপারেশন টিম যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ পাচার সিন্ডিকেট। ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ জুলাই। দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ১৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরা পসহ পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি ও সুশান্ত হালদার এই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিস।
রবিবার রাত ৯টা নাগাদ ধৃত তিন পাচারকারীকে সঙ্গে নিয়ে মালদার মঙ্গলবাড়ির একটি বহুতল আবাসনের তিন তলায় হানা দেয় পুলিস। ফ্ল্যাটের আলমারি খুলতেই দেখা যায় থরে থরে সাজানো নগদ টাকা। টাকার পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে, তড়িঘড়ি আনা হয় ৩টি নোট গোনার মেশিন। টানা পাঁচ ঘণ্টার টাকা গোনার পর উদ্ধার হয় ২ কোটি ৪১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৭০ টাকা, প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, ১টি ল্যাপটপ ও একাধিক সন্দেহজনক নথি। আবাসন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে খইহাট্টা এলাকার একটি গ্যারেজে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ৯০০০ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবাড়ির ওই ফ্ল্যাটটি প্রায় ৮ মাস আগে ভাড়া নিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত পিন্টু সরকার। ফ্ল্যাটের মালিক দিলীপ সাহা, যিনি এলাকার সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। অভিযানের খবর চাউর হতেই থমথমে পরিবেশ তৈরি হয় পুরাতন মালদার নবাবগঞ্জে পিন্টুর পৈতৃক ভিটেয়। পরিবার গা-ঢাকা দিয়েছে, প্রতিবেশীদের মুখেও কুলুপ। পিন্টুর বাবা নরোত্তম সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমার সঙ্গে ছেলের কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই। সে তার মতো থাকে, আমি আমার মতো থাকি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। ঘটনার সাফাই দিতে গিয়ে ফ্ল্যাট মালিক তথা তৃণমূল নেতা দিলীপ সাহা জানান, পিন্টু আমার পরিচিত ছিল। ফ্ল্যাট চাইলে আমি বিশ্বাস করে দিয়েছিলাম। সে যে আড়ালে এমন পাচারচক্র চালাবে, তা ভাবতেও পারিনি।
তবে দলীয় নেতার ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ। তিনি মন্তব্য করেন, বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ভাড়াটিয়ার নথি থানায় জমা দেওয়া উচিত ছিল,যা মালিক করেননি।
এই ঘটনায় ধৃত তিনজন অভিযুক্তকে দক্ষিণ দিনাজপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওষুধ ব্যবসার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মূলত আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য এই বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ পাচার করা হতো। এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং অন্য কোনো হেভিওয়েট নাম জড়িয়ে আছে কিনা, তা উদ্ধার করতেই জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিস।