শুভেন্দুর নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার। মিছিলে রয়েছে নিহত নির্যাতিতার মা ও বাবা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিসের লাঠি চার্জ। প্রস্তুত জলকামান, কাঁদান গ্যাস। পুলিসের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। ...
শুভেন্দুর নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার। মিছিলে রয়েছে নিহত নির্যাতিতার মা ও বাবা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিসের লাঠি চার্জ। প্রস্তুত জলকামান, কাঁদান গ্যাস। পুলিসের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। পুলিসের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে প্রতিবাদীরা। সাঁতরাগাছিতে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টায়। আহত বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী।
এদিন নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন নিহত নির্যাতিতার মা-বাবা। শুধু মাত্রা তণমূল বাদে, সব রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন তাঁরা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তাতে যোগ দিয়েছে বিজেপি। ধর্মতলা থেকে যে মিছিলটি নবান্নের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, সেই মিছিলে ছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। বেলা ১২টা নাগাদ মিছিল পার্কস্ট্রিট হয়ে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু পার্কস্ট্রিট মোড়েই মিছিল আটকে দেয় পুলিস। কিছু ক্ষণ পরেই পুলিসের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময়েই নির্যাতিতার মা আঘাত পান বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির সময় মহিলা পুলিসকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে। কপাল ফুলেও গিয়েছে। ভেঙেছে তাঁর হাতের শাঁখাও।
অভিযোগ, নির্যাতিতার মা-বাবা রেসকোর্সের পাশ দিয়ে এগোনোর সময় আবার তাঁদের পথ আটকায় পুলিশ। সেখানেও ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে গ্রিল। তার পরে শালবল্লার কাঠামো। তার পরে বাঁশের ব্যারিকেড। কলকাতা হাইকোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি দিয়েছে। তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড করেছে পুলিস এমনটাই জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা।
নবান্ন অভিযান নিয়ে আগেই এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম, এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার, কলকাতা ও হাওড়ার পুলিস কমিশনার মনোজ বর্মা এবং প্রবীণ ত্রিপাঠি সাংবাদিক বৈঠক করেন। শান্তিপূর্ণ মিছিলের ক্ষেত্রে পুলিসের কোনও আপত্তি নেই বলেই জানান এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম। সেখানে জানানো হয়., নবান্নের আশেপাশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। তাই যেকোনও জমায়েত নিষিদ্ধ। হাই কোর্টের নির্দেশমতো বিকল্প জায়গা হিসাবে সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ডকে বেছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। সেক্ষেত্রে প্রশাসনও মিছিলকারীদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা যাবে না। সেক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিস বাধ্য হবে বলেই জানান পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা।