রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের চর্চায় উঠে এল ছয় বছর আগের বহুল আলোচিত একটি মামলা। এবার সেই পুরনো ফাইল খুলে নতুন করে তদন্ত শুরু করল পুলিস। তদন্তের কেন্দ্রে ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। জেলা পুলিস সূত্রে খবর, ২০২০ সালে তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে শিরাকোল এলাকায় তাঁর কনভয়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান নাড্ডা। হামলার মামলার প্রথম এফআইআরেই অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠেছিল জাহাঙ্গির খানের।
সেই সময় ঘটনাটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বারবার। অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে নাম জড়ালেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়। তৎকালীন ঘটনায় নাড্ডার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার। পরে দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, কনভয়টি বুলেটপ্রুফ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিসের জালে ধরা পড়েছেন জাহাঙ্গির খান এবং বর্তমানে তিনি জেলবন্দি। সেই আবহেই নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে অসমাপ্ত ও বিতর্কিত মামলাগুলির পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তারই অংশ হিসেবে শিরাকোল হামলার মামলাটিও ফের খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। পুলিস সূত্রে দাবি, শুধু জাহাঙ্গির খান নন, ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকাও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা পুরনো নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং মামলার অগ্রগতির খতিয়ান নতুন করে পর্যালোচনা করছেন।
এক সময় এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির এখন একের পর এক মামলার চাপে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। শিরাকোল হামলা মামলার পুনর্তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন নতুন তথ্য সামনে আনে এবং জাহাঙ্গির খানের আইনি ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।