ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাকে নিয়ে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। তাদের বক্তব্য, শওকত এতটাই প্রভাবশালী যে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে তাঁকে রাখা হলে মামলার অন্য অভিযুক্তদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই তাঁকে অন্য কোনও সংশোধনাগারে স্থানান্তরের আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে। যদিও এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শওকতের আইনজীবী।
মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া বিস্ফোরণ মামলায় ৬৫ পাতার চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। বিস্ফোরণের ঘটনার ৮৭ দিনের মধ্যেই এই চার্জশিট পেশ করা হয়। সেখানে নাম রয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা, আহিদুল ইসলাম মোল্লা এবং রহমত আলি মোল্লার। বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে এনআইএ দাবি করে, ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেই বোমা তৈরি এবং বিস্ফোরণের ছক কষা হয়েছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য, যাতে সরাসরি সন্দেহ না যায়, সেই কারণে শওকতের এলাকা থেকে দূরে বোমা তৈরির কাজ করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, মামলার অন্য অভিযুক্তদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই শওকতকে প্রেসিডেন্সি জেল ছাড়া অন্যত্র রাখার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে শওকতের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, "এ বার কি জেলও এনআইএ ঠিক করে দেবে?" তাঁর অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত শওকতের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ আদালতে তুলে ধরতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এনআইএ-র আরও দাবি, ঘটনার সময় শওকত বিধায়ক ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় তাঁর নাম উল্লেখ করার সাহস পাননি। এমনকি তদন্তে শওকত সহযোগিতা করছেন না বলেও অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে পাল্টা প্রশ্ন তুলে শওকতের আইনজীবী বলেন, যদি এত অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রাথমিক এফআইআরে তাঁর নাম ছিল না কেন? এদিন আদালতে আনার সময়ও বিতর্কের মুখে পড়েন শওকত। তাঁকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়া হয় এবং ওঠে ‘মাছচোর’ স্লোগান। আরও একধাপ এগিয়ে এনআইএ দাবি করে, গ্রেফতারির সময় শওকত বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। যদিও এই অভিযোগের প্রমাণ চেয়ে সরব হন তাঁর আইনজীবী। আগামী শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ— সকলের।