বারুইপুরে একজন নাবালিকাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে জীবন্ত অবস্থায় বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনায় শিড়দাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে নাগরিক সমাজের। এমতাবস্থায়, প্রতিবাদের ‘কপি...
বারুইপুরে একজন নাবালিকাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে জীবন্ত অবস্থায় বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনায় শিড়দাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে নাগরিক সমাজের। এমতাবস্থায়, প্রতিবাদের ‘কপিরাইট’ নিয়ে সোমবার দিনেদুপুরে ইয়াব্বড়া এক সবুজ মোমবাতি নিয়ে হাজরায় বিক্ষোভ দেখালেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং, তাঁর দলের বিধায়করা অনেক ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ পেরিয়ে বারুইপুরে পৌঁছলেন।
এরপর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। সদলবলে বারুইপুরমুখী হল ঋতব্রত-তৃণমূল এবং লোকসভার বিদ্রোহী-তৃণমূল নেতৃত্ব। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষদস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা এলাকায় গেলে পুলিস তাঁদের পথরুদ্ধ করে দাঁড়ায় বলে দাবি করা হয়। অনেক তর্কাতর্কির পর এলাকার (যাদবপুর) সাংসদ হিসেবে সায়নী ঘোষকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এমতাবস্থায় পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন আরজিকর-কাণ্ডে মমতার সেই আইকনিক সংলাপ: অনেক হয়েছে, এবার উৎসবে ফিরুন।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরকাণ্ডে অভিযুক্তদের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যোগ রয়েছে যাদের, তাদের বিরুদ্ধে কি কঠোর পদক্ষেপ করবে বিজেপি সরকার?
এই বিতর্ক শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী-মন্ত্রিসভার অন্যতম মুখ অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন: ‘ধর্ম’ নয়, রাজধর্ম পালন করা হবে। এবং, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বারুইপুর গেলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “নির্যাতিতার মা কখনও হিন্দু হয় না, মুসলিম হয় না, তার একটাই পরিচয়। তাই অভিযুক্তরা কোন ধর্মের লোক, তা দেখা হবে না। আমরা কিন্তু আগের সরকারের মতো নই। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। যা ঘটেছে, তাকে জঘন্য বললেও কম বলা হয়”।