কে বৈধ কে অবৈধ, কে ভোটার কে ডি-ভোটার, তা নিয়ে এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ট্রাইবুনাল।জোকায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিবহুকথিত ট্রাইবুনাল এবার সত্যিই কাজ করতে শুরু করবে। এবং, এদিন জোকা...
কে বৈধ কে অবৈধ, কে ভোটার কে ডি-ভোটার, তা নিয়ে এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ট্রাইবুনাল।
জোকায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
বহুকথিত ট্রাইবুনাল এবার সত্যিই কাজ করতে শুরু করবে। এবং, এদিন জোকায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশানাল ইনস্টিট্যুট অব ওয়াটার স্যানিটেশনে গিয়ে ট্রাইবুনালের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয়কুমার পাল।
কমিশন-সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর তিন থেকে চারদিনের মধ্যেই শুরু হবে ট্রাইবুনালের কাজ। এমতাবস্থায়, মাইক্রো অবজারভার থেকে শুরু করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাও এদিন জোকায় সরেজমিনে গিয়ে 'ভেনু' দেখে এলেন।
সুপ্রিমে সোমবার শুনানি
সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি হবে। এবং, অবধারিতভাবে উঠবে ট্রাইবুনালের প্রসঙ্গও। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এক আইনজীবী আর্জি জানিয়েছেন, ট্রাইবুনালে উতরোতে পারলে এবারেই যাতে ভোট দিতে পারেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সোমবার সিদ্ধান্ত নেবে।
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এ প্রশ্ন আগেই উঠেছিল, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)দের মধ্যে যাঁরা বাদ গিয়েও শেষ অবধি ট্রাইবুনালে উতরোতে পারবেন, তাঁরা কি এবার ভোট দিতে পারবেন? বিষয়টি মাথায় রাখলেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে কিছু জানাননি এখনও। আদালত শুধু সুনিশ্চিত করেছে যে, এবার ভোট দিতে না-পারলেই চিরতরে ভোটাধিকার চলে যাবে তা কিন্তু নয়।
কেন এই সংশয়?
নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন পর্ব শেষ হলেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যায়। তখন আর কোনও নাম তোলা যায় না। নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তারপর ফের নাম তোলা যায়, বছরভর। রাজ্যে দু-দফার ভোটে প্রার্থীদের মনোনয়ন পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায়, ট্রাইবুনালে আবেদন করতে জেলায়-জেলায় হাজার-হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। ফরাক্কা ও রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী ট্রাইবুনালের রায়ে উতরে গিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজ্যে প্রথম দফায় ২৩ তারিখ ও দ্বিতীয় দফায় ২৯ তারিখ ভোটের আগে ট্রাইবুনালের রায়ে অনেকেই বৈধ ভোটার হয়ে উঠতে পারেন। পরে ভোটার তালিকায় নাম উঠলেও এবার তাঁদের নাম ওঠার কথা নয়। এবং, সেই কারণে এবার তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগও থাকার কথা নয়।
ডি-ভোটার?
এমতবস্থায়, আগামী সপ্তাহে ট্রাইবুনাল তার কাজ শুরু করে দিলেও সংশয় থেকে যাচ্ছে দু-জায়গায়। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)দের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ দিয়েছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা, তাঁদের মধ্যে যাঁরা উতরোতে পারবেন, তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন কি না। এবং, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ট্রাইবুনালের বিচারেও যাঁদের নাম বাতিল হবে, তাঁরা কি ডি-ভোটার বলে চিহ্নিত হবেন?
পড়শি রাজ্যের ডিটেনশন ক্যাম্পের দীর্ঘ ছায়া পড়েছে বাংলার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রেও।