Calcutta Television Network

বৃহস্পতিকে দেবগুরু বলা হয় কেন ?

বৃহস্পতিকে দেবগুরু বলা হয় কেন ?
বৃহস্পতিকে দেবগুরু বলা হয় কেন ? আমরা সবাই জানি গ্রহদের গুরু হলেন বৃহস্পতি,কিন্তু তিনি কি দেবতাদেরও গুরু? কেন তিনি দেবতাদের গুরু আজ জানব সেই ইতিহাস। হিন্দু পুরাণে বর্ণিত তথ্য়ানুসারে,দেবগুরু বৃহস্পতির জন্ম হয় ঋষি অঙ্গিরা ও তাঁর স্ত্রী সুরূপার গর্ভে। অঙ্গিরা ছিলেন একজন প্রাচীন ঋষি। ঋষি অঙ্গিরার আরও একটি পুত্র সন্তান ছিল, তার নাম ছিল উতথ্য। ঋগবেদে বলা হয়েছে, ঋষি অঙ্গিরাস কঠোর তপস্যার বলে, মহাবিশ্বের প্রথম উজ্জ্বল ও পবিত্র মহাআলোক থেকে এনে বৃহস্পতিকে জন্ম দিয়েছিলেন। যিনি সকল আঁধার দূরীভূত করেন। বৃহস্পতির হস্তে থাকে ন্য়ায়দন্ড, পদ্ম এবং জপমালা। যা কিনা সততা, ন্য়ায়বিচার, প্রজ্ঞা, জ্ঞান হল বৃহস্পতির মুল মন্ত্র। কথিত আছে যে বৃহস্পতি প্রভাস তীর্থের তীরে ভগবান শিবের অখণ্ড তপস্যা করে দেবগুরু উপাধি অর্জন করেছিলেন। এবং তখন ভগবান শিব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে নবগ্রহে স্থান দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, ভগবান শিব যখন কাশী নগরী স্থাপন করেছিলেন, তখন সমস্ত দেবতারাও এখানে থাকতে চেয়েছিলেন। তখন শিব বিশেষভাবে দেবগুরু বৃহস্পতিকে তাঁর কাছে স্থান দিয়েছিলেন এবং আজও বৃহস্পতির মন্দিরটি সেখানে অবস্থিত। ঋষি অঙ্গিরার সকল পুত্রের মধ্যে বৃহস্পতি ছিলেন সবচেয়ে মেধাবী এবং বুদ্ধিমান। শিবের ইচ্ছায় পরবর্তীকালে তিনি দেবতাদের গুরু পদও লাভ করেন। এই তথ্যের প্রমাণ মহাভারতের আদিপর্বে পাওয়া যায়। ঋগ্বেদে বর্ণিত তথ্য বলছে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালে বৃহস্পতির আবির্ভাব ঘটে। তাঁকে প্রথম মহান আলো থেকে জন্মগ্রহণকারী ঋষি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি অন্ধকার দূর করেছিলেন, তিনি উজ্জ্বল এবং পবিত্র, এবং একটি বিশেষ ধনুকের ধারক যার সুতো হল ধর্মের ভিত্তি। তাঁর জ্ঞান এবং চরিত্র শ্রদ্ধার পাত্র, এবং সমস্ত দেবতা তাঁকে গুরু বলে মনে করেন। বৈদিক সাহিত্য এবং অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থে, ঋষি বৃহস্পতিকে অন্যান্য নামেও ডাকা হয় যেমন বাচস্পতি, পুরোহিত, অঙ্গিরস এবং ব্যাস; কখনও কখনও তাঁকে দেবতা অগ্নির সাথে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর স্ত্রী হলেন তারা। বৃহস্পতিকে দেবগুরু বলা হয় কারণ প্রাচীন হিন্দু পুরাণে তিনি দেবতাদের শিক্ষক ও পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং অসুরদের বিরুদ্ধে দেবতাদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। বৈদিক যুগে তিনি জ্ঞানী, বাগ্মী এবং আগুনের সাথে যুক্ত একজন দেবতা ছিলেন। তাই, বৃহস্পতি শুধু দেবতাই নন, তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীকও, যা তাকে এই সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করেছে। প্রাচীন হিন্দু পুরাণ এবং বৈদিক সাহিত্যে বৃহস্পতিকে দেবতাদের উপদেষ্টা এবং শিক্ষক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি দেবতাদের ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়ে পথ দেখাতেন, এই জন্য়ই বৃস্পতিকে দেবগুরু বলা হয়।
শেয়ার করুন
বৃহস্পতিকে দেবগুরু বলা হয় কেন ? আমরা সবাই জানি গ্রহদের গুরু হলেন বৃহস্পতি,কিন্তু তিনি কি দেবতাদেরও গুরু? কেন তিনি দেবতাদের গুরু আজ জানব সেই ইতিহাস। হিন্দু পুরাণে বর্ণিত তথ্য়ানুসারে,দেবগুরু বৃহস্পতির জন্ম হয় ঋষি অঙ্গিরা ও তাঁর স্ত্রী সুরূপার গর্ভে। অঙ্গিরা ছিলেন একজন প্রাচীন ঋষি। ঋষি অঙ্গিরার আরও একটি পুত্র সন্তান ছিল, তার নাম ছিল উতথ্য। ঋগবেদে বলা হয়েছে, ঋষি অঙ্গিরাস কঠোর তপস্যার বলে, মহাবিশ্বের প্রথম উজ্জ্বল ও পবিত্র মহাআলোক থেকে এনে বৃহস্পতিকে জন্ম দিয়েছিলেন। যিনি সকল আঁধার দূরীভূত করেন। বৃহস্পতির হস্তে থাকে ন্য়ায়দন্ড, পদ্ম এবং জপমালা। যা কিনা সততা, ন্য়ায়বিচার, প্রজ্ঞা, জ্ঞান হল বৃহস্পতির মুল মন্ত্র। কথিত আছে যে বৃহস্পতি প্রভাস তীর্থের তীরে ভগবান শিবের অখণ্ড তপস্যা করে দেবগুরু উপাধি অর্জন করেছিলেন। এবং তখন ভগবান শিব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে নবগ্রহে স্থান দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, ভগবান শিব যখন কাশী নগরী স্থাপন করেছিলেন, তখন সমস্ত দেবতারাও এখানে থাকতে চেয়েছিলেন। তখন শিব বিশেষভাবে দেবগুরু বৃহস্পতিকে তাঁর কাছে স্থান দিয়েছিলেন এবং আজও বৃহস্পতির মন্দিরটি সেখানে অবস্থিত। ঋষি অঙ্গিরার সকল পুত্রের মধ্যে বৃহস্পতি ছিলেন সবচেয়ে মেধাবী এবং বুদ্ধিমান। শিবের ইচ্ছায় পরবর্তীকালে তিনি দেবতাদের গুরু পদও লাভ করেন। এই তথ্যের প্রমাণ মহাভারতের আদিপর্বে পাওয়া যায়। ঋগ্বেদে বর্ণিত তথ্য বলছে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালে বৃহস্পতির আবির্ভাব ঘটে। তাঁকে প্রথম মহান আলো থেকে জন্মগ্রহণকারী ঋষি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি অন্ধকার দূর করেছিলেন, তিনি উজ্জ্বল এবং পবিত্র, এবং একটি বিশেষ ধনুকের ধারক যার সুতো হল ধর্মের ভিত্তি। তাঁর জ্ঞান এবং চরিত্র শ্রদ্ধার পাত্র, এবং সমস্ত দেবতা তাঁকে গুরু বলে মনে করেন। বৈদিক সাহিত্য এবং অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থে, ঋষি বৃহস্পতিকে অন্যান্য নামেও ডাকা হয় যেমন বাচস্পতি, পুরোহিত, অঙ্গিরস এবং ব্যাস; কখনও কখনও তাঁকে দেবতা অগ্নির সাথে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর স্ত্রী হলেন তারা। বৃহস্পতিকে দেবগুরু বলা হয় কারণ প্রাচীন হিন্দু পুরাণে তিনি দেবতাদের শিক্ষক ও পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং অসুরদের বিরুদ্ধে দেবতাদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। বৈদিক যুগে তিনি জ্ঞানী, বাগ্মী এবং আগুনের সাথে যুক্ত একজন দেবতা ছিলেন। তাই, বৃহস্পতি শুধু দেবতাই নন, তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীকও, যা তাকে এই সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করেছে। প্রাচীন হিন্দু পুরাণ এবং বৈদিক সাহিত্যে বৃহস্পতিকে দেবতাদের উপদেষ্টা এবং শিক্ষক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি দেবতাদের ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়ে পথ দেখাতেন, এই জন্য়ই বৃস্পতিকে দেবগুরু বলা হয়।
শেয়ার করুন
img
img
img
img
img
img
img
img
img
×
  • CTVN