ভারতে সম্প্রতি ই২০ জ্বালানি (২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) চালু হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব এবং আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমাবে। তবে দেশের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি—মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা—এই নতুন জ্বালানি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ই২০ জ্বালানিতে অতিরিক্ত ক্লোরাইড ও আর্দ্রতা রয়েছে, যা গাড়ির ইঞ্জিন ও ফুয়েল সিস্টেমের জন্য ক্ষতিকর। উদাহরণস্বরূপ, কিছু রাজ্যে ক্লোরাইডের মাত্রা ৫৭০ ppm পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যেখানে নিরাপদ সীমা মাত্র ৩ ppm। একইভাবে, আর্দ্রতার মাত্রা ১৩,০০০ ppm পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা অনুমোদিত সীমার অনেক বেশি।
এই অতিরিক্ত উপাদান গাড়ির ফুয়েল সিস্টেমে ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে এবং ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে ই২০ জ্বালানি ব্যবহার করার পর গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে, ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার চলার পরই গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
যদিও সরকার ও তেল বিপণন সংস্থাগুলি বলছে যে ই২০ জ্বালানি নিরাপদ এবং পরীক্ষায় বড় ধরনের সমস্যা ধরা পড়েনি, তবুও গাড়ি নির্মাতাদের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এই সমস্যা সমাধান না হয় তবে ভোক্তাদের আস্থা নষ্ট হবে এবং গাড়ির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ই২০ জ্বালানি পরিবেশবান্ধব হলেও এর মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় পরিবেশের লাভের পাশাপাশি গাড়ির ক্ষতি ও ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ই২০ জ্বালানি নিয়ে ভারতের গাড়ি শিল্পে এক বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার যদি মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে এই উদ্যোগ সত্যিই টেকসই জ্বালানি ব্যবহারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
#E20Fuel #IndiaAuto #CleanEnergy #ConsumerSafety #PetrolControversy