আগামী একুশে সেপ্টেম্বর মহালয়া, অর্থাৎ দেবীপক্ষের সূচনা হবে এইদিনে। কিন্তু তারপর ১৫ দিন আগেই শুরু হয়ে যায় পিতৃপক্ষ। অর্থাৎ এই বছর পিতৃপক্ষের সূচনা হতে চলেছে চলতি মাসের 7 তারিখে। প্রসঙ্গত, আমাদের হিন্দু ধর্ম মতে পিতৃপক্ষ এবং মাতৃপক্ষের দুটোরই আলাদা অর্থ রয়েছে। পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে যেদিন মাতৃপক্ষের সূচনা হয় সেই দিন গঙ্গার ঘাটে ঘাটে করা হয় তর্পণ অর্থাৎ যেসব ব্যক্তিদের পূর্বপুরুষেরা মারা গেছে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে জল দান করা হয় সন্ধ্যাবেলায় বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়। এর সঙ্গে আরো নানান ধরনের নিয়মকানুন পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা কেউ কি জানেন এই বিশেষ দিন এমন কিছু নিয়ম আছে যা করলে রুষ্ট হতে পারে আপনার পূর্বপুরুষ। জীবনে ঘনিয়ে আসতে পারে বিপদ। জেনে নিন, কোন কোন কাজ করা যাবে না এই দিন।
কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজ:
এই সময়ে কোনো নতুন শুভ কাজ যেমন - বিয়ে, বাগদান, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু করা বা কোনো নতুন জিনিস কেনা উচিত নয়। মনে করা হয়, এই পক্ষ শোক ও স্মরণের জন্য উৎসর্গীকৃত, তাই কোনো আনন্দ বা উদযাপনের অনুষ্ঠান করলে তা পূর্বপুরুষদের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়।
আমিষ খাবার ও নেশা:
পিতৃপক্ষ চলাকালীন আমিষ খাবার, যেমন - মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এই ১৫ দিন সম্পূর্ণ নিরামিষ থাকা বাঞ্ছনীয়। একই সঙ্গে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো ধরনের নেশা করা থেকেও বিরত থাকা উচিত। পেঁয়াজ ও রসুনকেও এই সময় তামসিক খাদ্য হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই এগুলোও অনেকে এড়িয়ে চলেন।
চুল, দাড়ি বা নখ কাটা:
যে ব্যক্তি পিতৃপুরুষদের শ্রাদ্ধ বা তর্পণ করছেন, তার জন্য এই সময়ে চুল, দাড়ি বা নখ কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার প্রতীক।
চলুন এবারের জেনে নেওয়া যাক পিতৃপক্ষ চলাকালীন কী কী করা উচিত-
পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল ও পিণ্ডদান করতে পারেন।
গরিব বা অভাবী মানুষকে খাদ্য ও বস্ত্র দান করতে পারেন।
তর্পণ করার সময় কালো তিল ব্যবহার করা হয়। এটি পিতৃপুরুষদের সন্তুষ্ট করার একটি প্রতীকী উপায়।
Copyright © 2026 Calcuttatelevisionnetwork