ভারত তার নিজস্ব যুদ্ধবিমান বহরকে শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে *অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)* কর্মসূচির মাধ্যমে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এএমসিএ এবং প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি অত্যাধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি শিল্প অংশীদারদের হাতে তুলে দিয়েছে।
এই প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে উন্নত ধাতু, কম্পোজিট আর্মার এবং এরো-স্ট্রাকচার সিস্টেম, যা ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং *মেক-ইন-ইন্ডিয়া* উদ্যোগে বড় প্রেরণা।
এএমসিএ এখন দেশীয় ইস্পাত প্রযুক্তি, রাডোম সিস্টেম, এরো-স্ট্রাকচার উপাদান এবং কম্পোজিট আর্মারের সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই অগ্রগতির ফলে এএমসিএ কর্মক্ষমতা ও স্টেলথ ক্ষমতায় মার্কিন F-35 এবং একাধিক চীনা যুদ্ধবিমানকে ছাড়িয়ে যাবে।
ডিআরডিওর *ডিফেন্স মেটালার্জিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (DMRL)* সবচেয়ে জটিল যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরি করে শিল্প অংশীদারদের হাতে তুলে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিস্টেম হলো এএমসিএ-র জন্য *Rear Fin Root Fittings (RFRF)* এবং প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য উচ্চ-শক্তির সিরামিক রাডোম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই উপাদানগুলো যুদ্ধবিমানের স্থিতিশীলতা, গতি, স্টেলথ ক্ষমতা এবং কাঠামোগত শক্তি বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, এএমসিএ কর্মসূচি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নতি নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতীক। দেশীয় উদ্ভাবনকে যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করে ভারত ভবিষ্যতের জন্য এমন এক ভিত্তি তৈরি করছে, যেখানে তার বিমান প্রযুক্তি বিশ্বের সেরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে।
Copyright © 2026 Calcuttatelevisionnetwork