ওড়িশার মন্দিরনগরী পুরী আবারও ইতিহাসের আলোচনায় উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (GPR) জরিপে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এক প্রাচীন নগরীর চিহ্ন, যা আধুনিক পুরীর নিচে লুকিয়ে আছে। আরও বিস্ময়কর হলো—জরিপে এমন এক কাঠামোর সন্ধান মিলেছে, যা সম্ভবত জগন্নাথ মন্দির থেকে সোজা সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এক গোপন সুড়ঙ্গ।
১২শ শতকে নির্মিত জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে এই আবিষ্কার নতুন রহস্য উন্মোচন করেছে। শ্রীমন্দির পরিচর্যা প্রকল্প চলাকালীন শ্রমিকরা গঙ্গা রাজবংশের সময়কার সিংহমূর্তি খুঁজে পান। এরপরই উচ্চপ্রযুক্তি জরিপ শুরু হয়। ফলাফলে দেখা যায়, মন্দির চত্বরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো পুরী শহরজুড়ে লুকিয়ে আছে অন্তত ৪৩টি সম্ভাব্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা—যার মধ্যে এমার মঠ, নৃসিংহ মন্দির, বুড়ি মা মন্দিরসহ বহু স্থান রয়েছে।
জরিপে মাটির নিচে মৃৎপাত্র, ধাতব বস্তু ও দৈনন্দিন জীবনের নানা নিদর্শনও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে একসময় এখানে সমৃদ্ধ জনবসতি ছিল। সুড়ঙ্গের অস্তিত্ব বিশেষজ্ঞদের কৌতূহল বাড়িয়েছে—এটি কি সত্যিই সমুদ্রের সঙ্গে মন্দিরকে যুক্ত করত?
পুরীর আশেপাশে এর আগেও প্রাচীন নিদর্শন মিলেছে। গত বছর ইন্ট্যাক (INTACH)-এর জরিপে পিপিলি অঞ্চলে ষষ্ঠ–সপ্তম শতকের স্বপ্নেশ্বর মহাদেব মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। এই মন্দির রত্নচিরা নদীর তীরে অবস্থিত, যে নদীকে ঘিরে রয়েছে রামায়ণের কিংবদন্তি—ভগবান রাম সীতার তৃষ্ণা মেটাতে মুক্তোর আংটি দিয়ে নদীর পথ আঁকেন।
পুরীর নতুন আবিষ্কার তাই শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নয়, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। একদিকে ইতিহাসের অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে, অন্যদিকে পুরীর আধ্যাত্মিক মর্যাদা আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
Copyright © 2026 Calcuttatelevisionnetwork