সমর্থকদের মতে, এটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে। প্রধান গবেষক ড. লি ওয়েই বলেন, “মহামারী-পরবর্তী সময়ে যেখানে দূরবর্তী সাক্ষাৎকার সাধারণ, সেখানে এই প্রযুক্তি সিদ্ধান্তকে ৪০% দ্রুত করে এবং লুকানো সম্ভাবনা খুঁজে বের করে।” বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আবেদনকারীর মধ্যে দক্ষ প্রার্থী বাছাইয়ে এটি কার্যকর হতে পারে।
তবে সমালোচনা তীব্র। অনেকেই একে আধুনিক ফ্রেনোলজি বলে আখ্যা দিয়েছেন—কোডে মোড়ানো ছদ্মবিজ্ঞান। ২০২৫ সালের নভেম্বরে AAAI/ACM-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই-এর পক্ষপাতদুষ্ট ফলাফল মানুষ প্রায়ই অন্ধভাবে মেনে নেয়, ফলে ভুল আরও বেড়ে যায়। অ্যালগরিদম অশ্বেতাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী মুখকে ৩৪% বেশি হারে ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে। ACLU-এর অভিযোগে বলা হয়েছে, HireVue-এর পুরনো প্রযুক্তি বধির ও সংখ্যালঘু আবেদনকারীদের প্রতি বৈষম্য করেছে।
গোপনীয়তা রক্ষাকারীরা GDPR ও Title VII লঙ্ঘনের আশঙ্কা করছেন। অ্যালগরিদমিক জাস্টিস লিগের জয় বুয়োলামউইনি বলেন, “কোনো পিক্সেল সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে পারে না। অভিজ্ঞতা ও প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে মানুষকে কেবল ডেটা পয়েন্টে রূপান্তর করা হচ্ছে।”
আইনি প্রতিক্রিয়াও বাড়ছে। মেরিল্যান্ডের S.B. 446 আইন সাক্ষাৎকারে অনুমতি ছাড়া মুখ স্ক্যান নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জানুয়ারি ২০২৫-এর নির্বাহী আদেশ পূর্ববর্তী এআই সমতা নীতিকে বাতিল করেছে, ফলে রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছে।
এই বিতর্ক এআই-ভিত্তিক নিয়োগের দ্বিমুখী বাস্তবতা তুলে ধরে—একদিকে নির্ভুলতার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে পক্ষপাতের বিপদ। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে এটি মানবসম্পদকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন হলে আগামী কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে।