Calcutta Television Network

মঙ্গলের নীলাভ বালিয়াড়ি ও নাসার নতুন আবিষ্কার

নাসার মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটার (MRO) সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠে এক বিস্ময়কর নীলাভ বালিয়াড়ির ছবি প্রকাশ করেছে। এই ছবি শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং মঙ্গলের বায়ুপ্রবাহ, ধূলিকণা ও ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অরবিটারের **হাইরাইজ (HiRISE)** ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিগুলি লায়ট ক্রেটার ও গ্যাম্বোয়া ক্রেটারের ভেতরে অবস্থিত বালিয়াড়ি ক্ষেত্রকে তুলে ধরেছে।  

লায়ট ক্রেটারে দেখা গেছে চাঁদাকৃতি বারখান বালিয়াড়ি, যা সাধারণত স্থায়ী বাতাসের প্রবাহে গঠিত হয়। কিন্তু এর দক্ষিণে একটি বিশাল ও জটিল বালিয়াড়ি ধরা পড়েছে, যা নীলাভ রঙে আলোকিত। নাসা ব্যাখ্যা করেছে, আসলেই বালিয়াড়িটি নীল নয়; বরং ফলস‑কালার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সূক্ষ্ম কণার ভিন্নতা বা রাসায়নিক গঠনের পার্থক্যকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ওই বালিয়াড়ির উপাদান অন্যদের থেকে আলাদা হতে পারে এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে।  

অন্যদিকে, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে গ্যাম্বোয়া ক্রেটারে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে ক্ষুদ্র তরঙ্গাকৃতি রূপ, যা বড় বালিয়াড়ির উপর সারি সারি সাজানো। এগুলি প্রায় ৯ মিটার (৩০ ফুট) দূরত্বে এক শীর্ষ থেকে অন্য শীর্ষে বিস্তৃত। ছবিতে আরও দেখা গেছে ট্রান্সভার্স ইওলিয়ান রিজেস (TARs)—উজ্জ্বল, সমান্তরাল রেখা, যা মোটা বালুকণায় গঠিত। উন্নত রঙে TARs নীলাভ দেখায়, সম্ভবত বাতাসের কারণে গাঢ় ধূলিকণা সরিয়ে গিয়ে উজ্জ্বল কণাগুলি প্রকাশিত হয়েছে। এই রিজগুলির অবস্থান ও দূরত্ব বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অতীতের বাতাসের দিক নির্ধারণ করতে পারেন।  

MRO গত ষোল বছরেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গলকে প্রদক্ষিণ করছে। প্রাথমিকভাবে প্রাচীন জলের চিহ্ন খোঁজার জন্য পাঠানো হলেও এটি এখন রোভার পারসিভিয়ারেন্স ও কিউরিওসিটি‑র যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। একই সঙ্গে এটি নিজস্ব বৈজ্ঞানিক জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা পরিচালিত হাইরাইজ ক্যামেরা অবতরণস্থল নির্বাচন, পৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং খনিজ অনুসন্ধানে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।  

লায়ট ও গ্যাম্বোয়া ক্রেটারের এই ছবি প্রমাণ করে যে মঙ্গলের পৃষ্ঠ এখনও সক্রিয় ও বৈচিত্র্যময়। বাতাস, ধূলিকণা ও বালুকণা যুগে যুগে গ্রহটির ভূদৃশ্যকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।  


শেয়ার করুন