Calcutta Television Network

এআই টিউটর: ক্ষমতায়ন নাকি বিপর্যয়?

এনভিডিয়া সিইও জেনসেন হুয়াং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৈনন্দিন ব্যবহারের অন্যতম প্রবল সমর্থক। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন এআই টিউটর গ্রহণ করতে, যা ব্যক্তিগত শেখার এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে হুয়াং জানান, তিনি নিজেই প্রতিদিন একটি এআই টিউটরের উপর নির্ভর করেন এবং মনে করেন এই অভিজ্ঞতা সবার জন্যই হওয়া উচিত।  

হুয়াংয়ের পছন্দের টুল হলো Perplexity-এর এআই চালিত সার্চ ইঞ্জিন, যা তিনি প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল বায়োলজি পর্যন্ত নানা বিষয়ে শেখার জন্য ব্যবহার করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন Sizzle নামের বিনামূল্যের টিউটরিং সার্ভিস এবং Khan Academy-এর Khanmigo, যার মাসিক খরচ মাত্র চার ডলার। হুয়াং-এর মতে, এই ধরনের টুলস মানুষকে “যা খুশি শেখাতে পারে”—লেখা, বিশ্লেষণ, যুক্তি, সমস্যা সমাধান—সবকিছুতেই সহায়ক।  

তবে তিনি স্বীকার করেন, এআই টুলস নিখুঁত নয়। এগুলো প্রায়ই তথ্যগত ভুল করে এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এগুলোকে কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, কাজের বিকল্প হিসেবে নয়। হুয়াং নিজেও এআই ব্যবহার করেন লেখার প্রথম খসড়া তৈরিতে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে মানবীয় তত্ত্বাবধানকে অপরিহার্য মনে করেন।  

আগামী দশকের দিকে তাকিয়ে হুয়াং ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এআই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তা অর্জন করবে, যা মানুষকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম করে তুলবে। তার কল্পনায়, ভবিষ্যতে সবাই “সুপার এআই” দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবে, যা মানুষকে দুর্বল নয় বরং শক্তিশালী করে তুলবে।  

তবে সমালোচকরা ভিন্নমত পোষণ করেন। জরিপে দেখা গেছে, ৭৫% আমেরিকান উদ্বিগ্ন যে এআই মানুষের চাকরি কমিয়ে দেবে। ম্যাককিন্সির গবেষণা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের প্রায় অর্ধেক কাজ এআই দ্বারা স্বয়ংক্রিয় হতে পারে। মাইক্রোসফট এআই সিইও মুস্তাফা সুলেইমানও সতর্ক করেছেন যে এআই সাময়িকভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও এটি মূলত শ্রম প্রতিস্থাপনকারী প্রযুক্তি, যা কোটি কোটি মানুষকে নতুন দক্ষতা অর্জনে বাধ্য করবে।  

হুয়াং অবশ্য এসব আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করেন। এনভিডিয়ায় হাজারো দক্ষ কর্মীর মাঝে থেকেও তিনি কখনো মনে করেননি যে তিনি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছেন। বরং এআই তাকে আরও উচ্চাভিলাষী কাজের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তার মতে, এআই টিউটর হুমকি নয়, বরং ক্ষমতায়নের হাতিয়ার—যা শেখা, কাজ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।  


শেয়ার করুন