জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, জন্মাষ্টমীর দিনটি অত্যন্ত শুভ। এই দিনে কিছু বিশেষ কাজ করলে শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন হন এবং ভক্তদের মনোবাসনা পূরণ করেন বলে মনে করা হয়। এই দিনটি শুধু ভক্তির নয়, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি আহ্বানের এক শুভ সময়।
উপবাস: জন্মাষ্টমীর দিন সূর্যোদয় থেকে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত উপবাস রাখা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত। যদি পূর্ণ উপবাস সম্ভব না হয়, তাহলে ফল, জল বা দুধ পান করে উপবাস রাখতে পারেন।
লাড্ডু গোপালের পূজা: বাড়িতে লাড্ডু গোপালের মূর্তি থাকলে তাঁকে একটি সুন্দর সিংহাসনে বসান। এরপর তাঁকে দুধ, মধু, ঘি, দই এবং গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করান, যা 'পঞ্চামৃত' নামে পরিচিত।
নৈবেদ্য অর্পণ: শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় খাবার যেমন মাখন, মিছরি, লাড্ডু, ক্ষীর, এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তাঁকে অর্পণ করুন। এছাড়া তুলসী পাতা দিয়ে তৈরি ভোগ অর্পণ করাও শুভ। তুলসী পাতা ছাড়া কৃষ্ণের ভোগ অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়।
শঙ্খ বাজানো: পূজা করার সময় শঙ্খ বাজানো উচিত। এর ফলে পরিবেশ থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং শান্তি বিরাজ করে।
ঝুলনযাত্রা: জন্মাষ্টমীর দিন লাড্ডু গোপালকে একটি দোলনায় বসিয়ে দোল দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, এমনটি করলে কৃষ্ণ ভক্তদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।
মন্ত্র জপ: শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন মন্ত্র, যেমন "ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়" বা "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে" জপ করলে মন শান্ত হয় এবং মানসিক শান্তি লাভ হয়।
দান: এই দিনে দরিদ্র বা অভাবী মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র বা অর্থ দান করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ।
পান পাতায় এলাচ ও মিছরি নিয়ে মন্ত্র জপ করা: একটি পান পাতায় ১টি এলাচ ও মিছরি রেখে “শ্রীম রাধা” মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে পারেন। এরপর নিজের মনোস্কামনা গোপালের কাছে নিবেদন করুন।