Calcutta Television Network

পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কোনও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে চায় না। “We respect the Indian military capabilities.”- পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসে সামরিক শক্তি নিয়ে একে অপরকে নিয়ে কড়া মন্তব্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের একটি বক্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। পাকিস্তানের Inter-Services Public Relations-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন,   একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কোনও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে চায় না।

এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ভারত তার বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং দীর্ঘ-পাল্লার conventional strike capability দ্রুত বাড়াচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে দেশীয় উৎপাদনের গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জন্য ₹৭.৮৫ লক্ষ কোটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ₹২.১৯ লক্ষ কোটি মূলধনী ব্যয়ের জন্য।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল—“We are not into any sort of arms race with Indians.” তিনি বলেন, পাকিস্তানের লক্ষ্য প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং কোনও দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই।

এই বক্তব্যকে অবশ্য সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখার কোনও নিশ্চিত ভিত্তি নেই। এটি একটি নির্দিষ্ট সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের প্রকাশ্য অবস্থান। তবে বক্তব্যটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে পাকিস্তানের প্রকাশ্য স্বীকৃতির একটি উদাহরণ।

বিশেষ করে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রসার উল্লেখযোগ্য। DRDO-র তৈরি প্রযুক্তি আরও বেশি করে ভারতীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে সরকার conventional missile systems-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দেশীয় শিল্পে উৎপাদনের জন্য হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারত শুধু বিদেশি অস্ত্র কেনার পরিবর্তে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতাকে আরও বড় করতে পারবে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা। দুই দেশ মে ২০২৫-এ কয়েকদিন ধরে সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার পর ১০ মে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘর্ষের পর উভয় দেশই তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

তবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতাও মনে রাখা জরুরি। ভারত ও পাকিস্তান দু’দেশই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। ফলে সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্য যতই পরিবর্তিত হোক, সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের এই বক্তব্য তাই একদিকে ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণের প্রতি প্রকাশ্য স্বীকৃতি, অন্যদিকে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় না যাওয়ার একটি রাজনৈতিক বার্তা। এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা নীতি, অস্ত্র সংগ্রহ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই অবস্থান কতটা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয় তার উপর।

ভারতের জন্য অবশ্য বার্তাটি অন্য দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ—দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং সামরিক আধুনিকীকরণ এখন শুধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়; এটি দেশের কৌশলগত স্বাধীনতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ভারতের সক্ষমতাকে সম্মান করার কথা প্রকাশ্যে বলেছে। এখন দেখার বিষয়, এই স্বীকৃতি কি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও দায়িত্বশীল সামরিক আচরণের দিকে কোনও বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করে।

#India #Pakistan #IndianMilitary #Defence #MilitaryPower #Missiles #AirDefence #Geopolitics #SouthAsia

শেয়ার করুন