ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮৮% আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বা হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত দেখা দিলে ভারতের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে। তাই সরকার কৌশলগত তেল মজুত (Strategic Petroleum Reserve – SPR) গড়ে তুলেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ভারতের SPR-এর ক্ষমতা ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা প্রায় ৯.৫ দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এই মজুত রাখা হয়েছে ভূগর্ভস্থ গুহায়—বিশাখাপত্তনম (আন্ধ্রপ্রদেশ), মাঙ্গালুরু (কর্ণাটক) এবং পদুর (কর্ণাটক)-এ। এছাড়া তেল কোম্পানিগুলির বাণিজ্যিক স্টক মিলিয়ে মোট ৭৪ দিনের জ্বালানি বাফার রয়েছে।
সরকার ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পদুরে আরও ২.৫ মিলিয়ন টন এবং ওড়িশার চাঁদিখোলে ৪ মিলিয়ন টন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে ভারতের মোট SPR ক্ষমতা দাঁড়াবে ১১.৮৮ মিলিয়ন টন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী সদস্য দেশগুলিকে ৯০ দিনের আমদানি মজুত রাখতে হয়। ভারত সেই লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে।
কৌশলগত তেল মজুতের গুরুত্ব বহুমুখী। একদিকে এটি হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ ব্যাহত হলে অর্থনীতিকে রক্ষা করবে। অন্যদিকে এটি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা থাকলে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হয়।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভূগর্ভস্থ গুহা নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয় এবং সময় লাগে ৪–৭ বছর। এছাড়া LPG ও LNG-এর ক্ষেত্রে বড় মাপের কৌশলগত মজুত এখনও নেই, যদিও আমদানির উপর নির্ভরতা অনেক বেশি। ফলে ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, ভারতের কৌশলগত তেল মজুত প্রকল্প প্রমাণ করছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি।
#IndiaEnergy #StrategicReserves #OilSecurity #IEA #Hormuz