ভারতের টেলিভিশন সাংবাদিক দেব কোটক এই সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলন কভার করতে জনসমাবেশে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল সরাসরি সম্প্রচার করা, ভিড়ের মধ্যে কিছুক্ষণ থাকা এবং পরে সরে আসা। কিন্তু ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয়। আন্দোলনকারীরা “গোদি (ল্যাপডগ) মিডিয়া” স্লোগান দিতে দিতে তাঁকে ঘিরে ধরে এবং কয়েক ডজন মানুষ তাঁকে মারধর করে। কারণ তাঁর চ্যানেলকে আন্দোলনকারীরা সরকারপন্থী হিসেবে দেখে।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে এই হামলার দৃশ্য ধরা পড়ে এবং তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি দেখাচ্ছে যে ভারতে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের মধ্যে বিভাজন কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে। “গোদি মিডিয়া” শব্দবন্ধ এখন আন্দোলনকারীদের কাছে একটি প্রতীকী স্লোগান, যা তারা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রচারের অভিযোগে ব্যবহার করছে।
এই হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। যুব আন্দোলনকারীরা পরীক্ষার অনিয়ম ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাদের রাগ এখন শুধু রাজনৈতিক নেতাদের দিকে নয়, বরং সেই গণমাধ্যমের দিকেও, যাদের তারা মনে করে সরকারের বয়ানকে শক্তিশালী করছে।
গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—প্রতিবাদের অধিকার ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা একসঙ্গে নিশ্চিত করা, যাতে মতপ্রকাশ কখনোই সহিংসতায় রূপ না নেয়।
#IndiaProtests #MediaFreedom #Journalism #Democracy