Calcutta Television Network

চার বছরে দশকের কাজ—ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রায় নতুন অধ্যায়

“যে কাজ করতে বিশ্বের বহু বছর, এমনকি এক দশক সময় লাগে, ভারত তা মাত্র চার বছরে করে দেখিয়েছে।” SEMICON India 2026-এর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্য ভারতের সেমিকন্ডাক্টর অভিযাত্রার দ্রুত গতিকে তুলে ধরেছে। তবে এই বক্তব্যের প্রকৃত তাৎপর্য শুধু একটি পরিসংখ্যানে নয়—বরং ভারতের প্রযুক্তি ও শিল্পনীতির একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশের মধ্যে।

২০২২ সালে Semicon India Programme শুরু হওয়ার সময় ভারতের লক্ষ্য ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম তৈরি করা—chip design থেকে fabrication, assembly, testing এবং packaging পর্যন্ত। মাত্র চার বছরের মধ্যে সরকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি প্রায় ₹১.৬ লক্ষ কোটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে পাঁচটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে।

এখানেই ভারতের পরিবর্তনের গুরুত্ব।

সেমিকন্ডাক্টর কোনও সাধারণ শিল্পপণ্য নয়। আধুনিক অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি—স্মার্টফোন, গাড়ি, টেলিকম সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যান—চিপের উপর নির্ভরশীল। ফলে চিপ উৎপাদনে সক্ষমতা এখন শুধু শিল্পোন্নয়নের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতারও বিষয়।

ভারতের জন্য এই পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশের চিপের চাহিদার একটি বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর। NITI Aayog-এর ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর চাহিদার প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ এখনও আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। অর্থাৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করার পাশাপাশি সামনে এখনও দীর্ঘ পথ রয়েছে।

এই কারণেই SEMICON India 2026-এ প্রধানমন্ত্রী যে “second phase”-এর কথা বলেছেন, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম পর্যায় ছিল ভিত্তি তৈরি করা; পরবর্তী পর্যায়ে লক্ষ্য আরও গভীর—নিজস্ব chip design, advanced packaging, manufacturing equipment, materials, research এবং skilled manpower।

এই লক্ষ্যেই Semicon 2.0-এর জন্য ₹১,২৭,৫০০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন, chip design, machines and materials, নতুন fabs, talent development এবং ATMP/OSAT ecosystem।

ভারতের অগ্রগতির আরেকটি দিক হল মানবসম্পদ। সরকারি হিসাবে, চার বছরে ৮৫,০০০ semiconductor engineers তৈরির লক্ষ্য পূরণ হয়েছে—যেখানে প্রাথমিক পরিকল্পনায় এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ১০ বছর সময় ধরা হয়েছিল।

তবে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই।

বড় semiconductor fabrication plant তৈরি করা অত্যন্ত জটিল ও মূলধননির্ভর প্রক্রিয়া। ভারত এখনও বিশ্বের বৃহৎ advanced-chip manufacturing hubs-এর সমতুল্য অবস্থানে পৌঁছায়নি। বড় আকারের fabrication ecosystem, specialised materials, equipment এবং indigenous intellectual property-র ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনও বড় চ্যালেঞ্জ।

তবুও পরিবর্তনের দিকটি স্পষ্ট। ভারতের semiconductor story এখন আর শুধু “আমরা চিপ তৈরি করব”—এই ঘোষণায় আটকে নেই। তা ধীরে ধীরে প্রকল্প, কারখানা, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের বাস্তবতায় পৌঁছচ্ছে।

বিশ্ব যখন চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে China-Taiwan-কেন্দ্রিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন trusted manufacturing locations খুঁজছে, তখন ভারতের সামনে একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। SEMICON India 2026-এ ৫২টি দেশের ৬০০-র বেশি সংস্থার অংশগ্রহণ সেই আন্তর্জাতিক আগ্রহেরই একটি ইঙ্গিত। Applied Materials-ও ভারতে আগামী দশকে $৫ বিলিয়ন বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

চার বছরে ভারতের অর্জন তাই শুধু গতি নয়—একটি নতুন শিল্পভিত্তি তৈরির সূচনা।

এখন আসল পরীক্ষা হল, এই গতি আগামী দশ বছর ধরে রাখা যায় কি না। কারণ semiconductor leadership কোনও চার বছরের প্রকল্প নয়; এটি বহু দশকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরির যাত্রা।

#SemiconIndia2026 #Semiconductors #India #ChipManufacturing #Technology #MakeInIndia #DigitalIndia #Semicon20 #PMModi #IndianTechnology

শেয়ার করুন