Calcutta Television Network

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষায় জাতীয় কাঠামো—সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন নিয়ে আলোচনায় এসেছে। ইন্দোরের এমেরাল্ড হাইটস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আদালতে আবেদন করেছে যাতে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য একটি জাতীয় কাঠামো তৈরি হয়। আদালত ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাব চেয়েছে। এই ঘটনাটি শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ ব্যবহার শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে—অনলাইন গ্রুমিং, যেখানে অপরাধীরা শিশুদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তাদের শোষণ করে; সাইবার বুলিং, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে; এবং অশালীন ও অনুপযুক্ত কনটেন্টে প্রবেশাধিকার, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্কুলের দাবি, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের আগে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা উচিত। এছাড়া, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোনো শিশু যেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তারা শিশুদের সুরক্ষার পাশাপাশি অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে চাইছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপকে অনেকেই যুগান্তকারী বলে মনে করছেন। কারণ, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার শিশুদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলি মোকাবিলা করার মতো কোনো সুসংহত জাতীয় নীতি নেই। আদালতের হস্তক্ষেপ সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার মাধ্যমে ভারতের ডিজিটাল নীতি নতুন দিক পেতে পারে। একদিকে শিশুদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, এমেরাল্ড হাইটস স্কুলের আবেদন শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ নয়, বরং গোটা সমাজের দাবি। শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। সুপ্রিম কোর্টের এই উদ্যোগ ভারতের ডিজিটাল যুগে শিশু সুরক্ষার নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।

#SupremeCourt #SocialMediaSafety #ChildProtection #BreakingNews #IndiaDigital

শেয়ার করুন