দোল উৎসবের সূচনা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য ও পুরাণকথার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান বসন্তোৎসব এই দোল, যা রঙের উৎসব নামেও পরিচিত। এর ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক ভিত্তি বহু প্রাচীন।
দোল উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভক্ত প্রহ্লাদ ও অসুর রাজা হিরণ্যকশিপুর কাহিনি। পুরাণ অনুসারে, হিরণ্যকশিপু নিজের পুত্র প্রহ্লাদকে বিষ্ণুভক্তির জন্য নানা অত্যাচার করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর বোন হোলিকাকে দিয়ে প্রহ্লাদকে অগ্নিদাহে হত্যার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ রক্ষা পান এবং হোলিকা দগ্ধ হন। এই ঘটনার স্মরণে দোলের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ পালিত হয়। ভগবান বিষ্ণুর নরসিংহ অবতার, অর্থাৎ নরসিংহ, হিরণ্যকশিপুকে বধ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন—এই ঘটনাও দোল উৎসবের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, দোল উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার লীলাকাহিনি। বৃন্দাবনে কৃষ্ণ তাঁর সখীদের সঙ্গে রঙের খেলায় মেতে উঠতেন। সেই থেকেই রঙ খেলার প্রথা প্রচলিত হয় বলে মনে করা হয়। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে দোলযাত্রা হিসেবে এই উৎসব পালিত হয়, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ দোলায় বসিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বাংলার নবজাগরণের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসবের সূচনা করেন, যা দোল উৎসবকে নতুন সাংস্কৃতিক মাত্রা দেয়। সেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে বসন্তকে বরণ করা হয়।
এইভাবে পৌরাণিক কাহিনি, ভক্তি, প্রকৃতির নবজাগরণ এবং সামাজিক মিলনের সমন্বয়ে দোল উৎসবের সূচনা ও বিকাশ ঘটেছে। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং আনন্দ, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতীক।