দোল বা হোলি হল বসন্তের এক অনন্য রঙের উৎসব, যা বিশেষ করে ভারত ও নেপাল-এ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো একে অপরকে আবির বা রঙ মাখানো। কিন্তু দোলের দিন আবির মাখা হয় কেন—এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সামাজিক তাৎপর্য।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, দোল উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাধা ও কৃষ্ণ-এর লীলাকাহিনি। বৃন্দাবনে কৃষ্ণ তাঁর সখী ও গোপীদের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতে উঠতেন। রাধা-কৃষ্ণের এই রঙের খেলা প্রেম, আনন্দ ও মিলনের প্রতীক। সেই ঐতিহ্য থেকেই দোলের দিন আবির মাখানোর প্রথা চালু হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
অন্যদিকে, দোল উৎসবের আরেকটি দিক হলো অশুভের বিনাশ ও শুভের জয়। এই উৎসবের আগের দিন ‘চাঁচর’ বা ‘হোলিকা দহন’ পালিত হয়, যা অসুর শক্তির বিনাশকে নির্দেশ করে। পরদিন রঙ খেলার মাধ্যমে মানুষ নতুন আশায়, নতুন উদ্যমে জীবনকে বরণ করে নেয়। আবিরের লাল, হলুদ, সবুজ, নীল প্রভৃতি রঙ জীবনের নানা অনুভূতি—ভালোবাসা, শান্তি, শক্তি ও আনন্দের প্রতীক।
বাংলায় দোলযাত্রা বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জনপ্রিয়। শান্তিনিকেতন-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রবর্তিত ‘বসন্তোৎসব’ দোলের এক অনন্য রূপ, যেখানে আবির মেখে নৃত্য-গীতের মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়।
সব মিলিয়ে, দোলের দিন আবির মাখানো শুধু একটি আনন্দের প্রকাশ নয়; এটি প্রেম, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। এই দিনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একে অপরকে রঙ মেখে ভেদাভেদ ভুলে যায়। তাই আবির শুধু রঙ নয়, এটি হৃদয়ের মিলন ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।