একসম...">
যৌথ পরিবারে মানুষ ছোটবেলা থেকেই ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা পায়। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সবকিছুই সম্মিলিতভাবে ভাগাভাগি হত। ফলে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমষ্টির কথা ভাবার মানসিকতা তৈরি হতো। বর্তমানে একক পরিবারে সেই পরিবেশ অনুপস্থিত। বাবা-মা ও সন্তানের সীমিত পরিসরে বেড়ে ওঠা শিশুরা ধীরে ধীরে “আমি” কেন্দ্রীক মানসিকতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।
যৌথ পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের অভিজ্ঞতা ও উপদেশ জীবনের পথে চলার দিশা দেখাত। নৈতিকতা, সহনশীলতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা পরিবার থেকেই পাওয়া যেত। কিন্তু সেই বন্ধন শিথিল হওয়ায় আজকের সমাজে মানুষ নিজের সুবিধা ও সাফল্যকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যের কষ্ট বা প্রয়োজন অনেক সময়ই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
এছাড়া, যৌথ পরিবারে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হতো। কারও অসুখ-বিসুখ বা সমস্যায় পুরো পরিবার পাশে দাঁড়াত। একক পরিবারে সেই সহায়তার অভাব মানুষকে আত্মনির্ভর হলেও একই সঙ্গে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যৌথ পরিবার হারিয়ে যাওয়াই আত্মকেন্দ্রিকতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। আধুনিকতার প্রয়োজনে পরিবার কাঠামো বদলালেও, যৌথ পরিবারের মূল্যবোধ—সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও মানবিকতা—সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি।