বাংলার সংস্কৃতি ও শিক্ষাজগতের সঙ্গে সরস্বতী পূজার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহ্যপূর্ণ। বিদ্যা, বুদ্ধি, সুর ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতীর আরাধনা প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে প্রচলিত থাকলেও, বাংলায় এই পূজার বিশেষ রূপ গড়ে ওঠে মধ্যযুগ থেকে।
ঐতিহাসিকদের মতে, পাল ও সেন যুগে বাংলায় সংস্কৃত শিক্ষা ও বৌদ্ধ-ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরস্বতী দেবীর পূজাও জনপ্রিয়তা পায়। সেই সময় রাজসভা ও শিক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যার দেবীর আরাধনা ছিল নিয়মিত রীতি। পরবর্তীকালে নবাবি আমলেও এই পূজা বন্ধ হয়নি বরং গ্রাম ও শহরের পাঠশালা, টোল গুলিতে সরস্বতী বন্দনার মাধ্যমে বিদ্যার সূচনা হতো।
উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলায় আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সরস্বতী পূজা নতুন মাত্রা লাভ করে। স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসন্ত পঞ্চমীর দিনে বিশেষভাবে এই পূজার আয়োজন শুরু হয়। ছাত্রছাত্রীরা বই-খাতা ও কলম দেবীর চরণে অর্পণ করে বিদ্যার আশীর্বাদ কামনা করত। এই সময় থেকেই সরস্বতী পূজা ছাত্রসমাজের উৎসবে পরিণত হয়।
বিশ শতকে এসে এই পূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং সেটা হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক মিলনের এক উৎসব। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও আনন্দে সরস্বতী পূজা আজ বাংলার সমাজজীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
অতএব, বাংলায় সরস্বতী পূজার প্রচলন ইতিহাসের ধারায় বিবর্তিত হয়ে আজ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।বর্তমানে স্বরস্বতী পূজা বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসার অন্যতম প্রধান উৎসব হিসাবে সাড়ম্বরে পালিত হয়।