Calcutta Television Network

সরস্বতী পুজোর পরদিন কেন দধিকর্মা অনুষ্ঠান হয় ?

সরস্বতী পুজোর পরদিন কেন দধিকর্মা অনুষ্ঠান হয় ?

25 January 2026 , 01:26:58 pm

সরস্বতী পুজো বাঙালি জীবনে এক বিশেষ আবেগের উৎস। বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনার মাধ্যমে ছাত্রসমাজ জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার আশীর্বাদ কামনা করে। এই পুজোর পরদিন যে অনুষ্ঠানটি বহু ঘরে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পালিত হয়, তা হলো দধিকর্মা। এই প্রথার পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক রীতি এবং প্রতীকী তাৎপর্য।

দধিকর্মা মূলত দেবী সরস্বতীর বিসর্জনের পরদিন অনুষ্ঠিত হয়। ‘দধি’ অর্থাৎ দই এবং ‘কর্মা’ অর্থ কাজ বা অনুষ্ঠান—এই দুই শব্দ মিলেই দধিকর্মা। সরস্বতী পুজোর দিনে উপবাস বা নিরামিষ আহার করার রীতি প্রচলিত। দেবীর বিদায়ের পরদিন দই, চিঁড়ে, কলা, মুড়ি, গুড় ইত্যাদি দিয়ে সহজ ও পবিত্র আহারের মাধ্যমে সেই ব্রত ভঙ্গ করা হয়। এটিই দধিকর্মার প্রধান আচার।

এই অনুষ্ঠানের একটি গভীর প্রতীকী অর্থও রয়েছে। দইকে ধরা হয় শীতলতা, স্থিতি ও শুভতার প্রতীক হিসেবে। বিদ্যার চর্চা যেমন মনকে শান্ত ও সংযত করে, তেমনই দধিকর্মার আহারও মানসিক প্রশান্তির ইঙ্গিত বহন করে। অনেকের বিশ্বাস, এই দিনে দধিকর্মা পালন করলে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ে এবং বিদ্যার পথে বাধা দূর হয়।

সামাজিক দিক থেকেও দধিকর্মা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাড়া, স্কুল বা কলেজে একসঙ্গে বসে দধিকর্মা খাওয়ার মধ্যে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার বন্ধন। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলা।

সব মিলিয়ে, সরস্বতী পুজোর পরদিন দধিকর্মা অনুষ্ঠান বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি অর্থবহ ঐতিহ্য। এটি বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদকে স্মরণ করার পাশাপাশি সংযম, পবিত্রতা ও সামূহিকতার মূল্যবোধকেও তুলে ধরে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN