কান পরিষ্কার করতে ইয়ারবাড ব্যবহার করা অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এই অভ্যাসটি কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আমরা সাধারণত মনে করি ইয়ারবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করলে ময়লা বের হয়ে যায়, কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীতটাই বেশি ঘটে।
প্রথমত, ইয়ারবাড কানের ময়লা (earwax বা cerumen) বাইরে বের করার বদলে আরও ভেতরে ঠেলে দেয়। এতে কানের ভেতরে ময়লা জমে ব্লক তৈরি হতে পারে, যার ফলে শুনতে অসুবিধা, কান বন্ধ লাগা বা ব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই জমে থাকা ময়লা ডাক্তারি সাহায্য ছাড়া বের করা সম্ভব হয় না।
দ্বিতীয়ত, কানের ভেতরের অংশ খুবই সংবেদনশীল। ইয়ারবাড একটু বেশি গভীরে ঢুকলে কানের পর্দা (eardrum) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি অসাবধানতাবশত জোরে ঢুকলে কানের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও হতে পারে।
এছাড়া ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে কানের ভেতরে ছোটখাটো আঁচড় বা ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি ইয়ারবাড পরিষ্কার না হয় বা অন্যের ব্যবহৃত হয়, তবে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সহজেই কানে প্রবেশ করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানের ময়লা আসলে শরীরের একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি ধুলো, জীবাণু ও ক্ষতিকর কণা থেকে কানকে রক্ষা করে এবং স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে বাইরে চলে আসে। তাই নিয়মিত গভীরভাবে কান পরিষ্কার করার প্রয়োজন সাধারণত নেই।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, কানের ভেতরে কিছু ঢোকানো থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি অতিরিক্ত ময়লা জমে বা অস্বস্তি হয়, তাহলে নিজে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, ইয়ারবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করা আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এটি কানের জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাই কানের সুস্থতা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি।