গ্রীষ্মকাল মানেই প্রচণ্ড গরম, ঘাম এবং ত্বকের নানা সমস্যা। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি সমস্যা হলো ঘামাচি। ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি, চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া—এসব উপসর্গ ঘামাচির কারণে দেখা যায়। শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ঘামাচি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
rnপ্রথমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দিনে অন্তত দুইবার স্নান করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং ঘাম জমে থাকা কমে যায়। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফিরে এসে দ্রুত স্নান করলে ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও ঘাম পরিষ্কার হয়, যা ঘামাচি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
rnদ্বিতীয়ত, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা উচিত। টাইট বা সিনথেটিক কাপড় শরীরে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, ফলে ঘাম জমে যায় এবং ঘামাচি বাড়ে। সুতির কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং ত্বককে শ্বাস নিতে দেয়।
rnতৃতীয়ত, শরীরকে সবসময় শুকনো রাখা দরকার। বেশি ঘাম হলে নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সংবেদনশীল ত্বকে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
rnচতুর্থত, অতিরিক্ত গরম ও রোদ এড়িয়ে চলা ভালো। দুপুরের প্রখর রোদে বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিন। ঘরের ভেতরে ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যাতে শরীর ঠান্ডা থাকে।
rnপঞ্চমত, প্রাকৃতিক উপায়ও ঘামাচি কমাতে সাহায্য করে। যেমন—অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগালে শীতলতা পাওয়া যায় এবং চুলকানি কমে। নিমপাতা দিয়ে স্নান করলেও উপকার পাওয়া যায়, কারণ এতে জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে।
rnএছাড়া, ত্বকে ঘাম জমে থাকে এমন জায়গা যেমন ঘাড়, পিঠ, বগল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। যদি ঘামাচি বেশি বেড়ে যায় বা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
rnসঠিক যত্ন এবং সচেতনতার মাধ্যমে গরমে ঘামাচির সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটু যত্ন নিলেই গ্রীষ্মকাল কাটাতে পারবেন স্বস্তিতে।