আজকালকার দিনে, মানুষ শরীরচর্চা করার সঙ্গে কঠোরভাবে ডায়েটও মেনে চলে। তাই, ডায়েটের ক্ষেত্রে অনেকেই চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড কিংবা কিউইয়ের মতন খাবার খেয়ে থাকে। এই সূত্র ধরে বলা ভালো, চিয়াসিড যেমন শরীর স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো তেমনি ফ্ল্যাক্স সিডও শরীরের নানার উপকার করতে সাহায্য করে। এই বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ওমেগা ৩ ফাটি এসিড। এই বীজ যদি জলে ভেজানো হয় তাহলে চিয়া সিটের মতো এখানে একটা খানিকটা থকথকে জেলির মতন হয়ে যায়।
এই জেলিকে আবার ছাড়তে গেলে কাল ঘাম ছুটে যায়। তবে ফ্লেক্স সিড চিবিয়ে খাওয়া বেশ কষ্টকর। তাই অনেকেই চিবিয়ে খাওয়ার বদলে আগে মিস্ত্রিতে গুড়ো করে নেন তারপরে সেটাকে পাউডার বানিয়ে জলে মিশিয়ে খান। আচ্ছা কেউ কি জানেন এই বীজ চিবিয়ে খাওয়ার বদলে গুঁড়ো করে খেলে খেলে শরীরের কী কী উপকার পাওয়া যেতে পারে? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক এই বীজ খাওয়ার উপকারিতা-
হার্টের যত্ন নেয়:
এই বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। আবার, এই বীজ গুঁড়ো করার ফলে এই ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি রক্তে মিশতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, কেউ যদি রোজ রোজ ৩০ গ্রাম ফ্ল্যাক্স সিডের পাউডার খায় তাহলে ট্রাইগ্লিসারাইড ২০% ও কোলেস্টেরল ১৫% কমে যায়। এর ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।
সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে:
ফ্ল্যাক্স সিডের মধ্যে থাকা ফাইবার কার্বস হজম করতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই, ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী এই বীজ। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন ২ চামচ করে ফ্ল্যাক্স সিডস পাউডার খাওয়া যেতে পারে।
অন্ত্রের সমস্যা দূর করতে:
অন্ত্রের সমস্যা দূর করতে এই সিডের জুড়ি মেলা ভার। ফ্ল্যাক্স সিডের পাউডার কোষ্ঠকাঠিন্য-এর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। আবার, কারোর ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম থাকলেও সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এই বীজের গুঁড়ো।
ওজন কমায়:
টক দইয়ের সঙ্গে যদি কেউ ২৫ গ্রাম ফ্ল্যাক্স সিড খেতে পারেন তাহলে সারাদিনের নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরির মধ্যে ১৫% ক্যালোরি গ্রহণ পূরণ করা যাবে। জানা যাচ্ছে, এক আউন্স ফ্ল্যাক্স সিডসে থাকে ১৫০ ক্যালোরি। ফ্ল্যাক্স সিড মুখরোচক খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যার ফলে, ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুলের জন্য:
ফ্ল্যাক্স সিডসের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিগন্যান্স। এই যৌগটি শরীরের রমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্যই করে। শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে, ত্বকের ব্রেকআউট কিংবা ব্রণর সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফ্ল্যাক্স সিডসের নানা উপাদান স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।