মাইগ্রেন আর কফি-দীর্ঘদিন ধরে এই দুইয়ের সম্পর্ক নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন কফি মাথাব্যথা কমায়, আবার অনেকের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে ওঠে ট্রিগার। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউরোপীয় জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশন (European Journal of Clinical Nutrition)-এ প্রকাশিত এক চিনা গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, নিয়মিত তুলনামূলক বেশি পরিমাণে কফি পান করলে মাইগ্রেন অ্যাটাকের ঝুঁকি কমতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ‘অরা’-সহ মাইগ্রেন হয়-অর্থাৎ মাথাব্যথার আগে চোখে অন্ধকার দেখা, ঝিনঝিন ভাব বা আলো-গন্ধে সংবেদনশীলতা-তাঁদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন বেশ কার্যকর হতে পারে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন নানচাং বিশ্ববিদ্যালয় (Nanchang University)-এর গবেষকরা। প্রায় এক দশক ধরে ৪০ হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে তাঁরা দেখেছেন, অন্যান্য স্নায়ুরোগে কফির প্রভাব সীমিত হলেও, মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে এটি কিছুটা সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাফেইন রক্তবাহিকার প্রসারণ কমিয়ে মাথাব্যথা উপশমে সাহায্য করে। তাই অনেক মাইগ্রেনের ওষুধেও প্যারাসিটামলের সঙ্গে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়। তবে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে-দৈনিক প্রায় ২০০ গ্রাম কফি পান করলে তবেই এই উপকার মিলতে পারে, যা সাধারণ ভারতীয়দের অভ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি।
এখানেই রয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। এতটা কফি নিয়মিত খেলে গ্যাস, অম্বল বা অস্বস্তির সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া গবেষণাটি মূলত ইউরোপীয়দের উপর করা হয়েছে, ফলে ভারতীয় বা এশীয়দের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা একই হবে, তা নিশ্চিত নয়।
কফি মাইগ্রেন কমাতে সাহায্য করতে পারে-তবে তা সবার ক্ষেত্রে নয় এবং সীমিত মাত্রায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত কফি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।