পৌষ মাস মানেই হাড়কাঁপানো শীত, কুয়াশার চাদরে ঢাকা সকাল আর চারপাশে ভেসে বেড়ানো পিঠেপুলির ম-ম গন্ধ। এই শীতের আমেজে বাঙালির পাতে এক অনিবার্য নাম নলেন গুড়। শুধু যে মিষ্টি স্বাদে মন ভরায়, তা নয়; শীতকালের এই প্রাকৃতিক উপাদানটি আসলে একেবারে 'সুপারফুড'।
খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি নলেন গুড়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট। শীতকালে শরীর সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে-এনার্জির ঘাটতি মেটাতে নলেন গুড় দারুণ কার্যকর। সকাল শুরু হোক বা বিকেলের চা-অল্প নলেন গুড়েই মিলবে চনমনে ভাব।
শীতে আরেকটি বড় সমস্যা হজম। ঠান্ডার কারণে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাসের সমস্যা বাড়ে। নলেন গুড়ে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। তাই শীতের খাদ্যতালিকায় নলেন গুড় থাকলে পেট থাকবে স্বস্তিতে।
মরশুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর লেগেই থাকে। নলেন গুড়ে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি পেশিকে শক্তিশালী করে এবং শরীরকে ভিতর থেকে উষ্ণ রাখে। শ্লেষ্মাজনিত সমস্যা বা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কমাতেও নলেন গুড় অত্যন্ত উপকারী।
শুধু তাই নয়, নলেন গুড় রক্ত পরিশোধনেও সাহায্য করে। লিভার ও পাকস্থলী থেকে টক্সিন বের করে শরীরকে ডিটক্স করতে সহায়ক এই প্রাকৃতিক মিষ্টি।
খাওয়ার পদ্ধতিও বেশ সহজ। চা-কফিতে চিনির বদলে ব্যবহার করতে পারেন নলেন গুড়। ওটস বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে, কিংবা পায়েস, সন্দেশ, পাটিসাপটা-সবেতেই নলেন গুড় মানেই স্বাদের নতুন মাত্রা। কেউ কেউ আবার রুটি বা পরোটার সঙ্গেও গুড় খেতে ভালোবাসেন।