দাম্পত্য জীবনে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সম্পর্ককে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সহবাস শুধু সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ায় না, শরীর ও মনের উপরও এর বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তবে প্রশ্ন ওঠে- সপ্তাহে ঠিক কতবার সেক্স করা স্বাভাবিক বা স্বাস্থ্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সহবাস শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী। প্রথমত, এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। সহবাসের সময় শরীরে বিভিন্ন 'হ্যাপি হরমোন' নিঃসৃত হয়, যা মনকে প্রশান্ত করে এবং স্ট্রেস কমায়। এছাড়া যৌনমিলনের ফলে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, যা হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এর পাশাপাশি শরীরে ইমিউনোগ্লোবিন-এ নামের এক ধরনের অ্যান্টিবডির উৎপাদন বাড়ে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
তবে উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত সহবাস শরীর ও মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বেশি সেক্স করার ফলে কিছু মানুষের মধ্যে যৌন আসক্তি বা 'সেক্স অ্যাডিকশন' তৈরি হতে পারে। এর ফলে মানসিক অস্থিরতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এমনকি দৈনন্দিন কাজে মনোযোগের অভাবও দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত সহবাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা অনেকাংশে হরমোনের উপর নির্ভর করে। তাই অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া করলে ক্লান্তি বা এনার্জির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।
মস্তিষ্কের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ব্রেনের বিভিন্ন নিউরোহরমোন মানুষের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। সেগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলে মনোযোগের সমস্যা বা কাজের অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
তাহলে সপ্তাহে কতবার সহবাস করা উচিত? বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞের মতামত অনুযায়ী, সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার সহবাসকে সাধারণত স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর ধরা হয়। অবশ্যই এটি নির্ভর করে বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দাম্পত্য বোঝাপড়ার উপর।