'শাড়ি ক্যানসার'-শুনতে অদ্ভুত হলেও বাস্তবে এটি এক ধরনের বিরল চর্মরোগ, যা দীর্ঘদিনের অসচেতনতা থেকে তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি 'স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা', অর্থাৎ ত্বকের ক্যানসারের একটি ধরন।
এই রোগ মূলত কোমরের সেই অংশে দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে শাড়ির সায়া বা পেটিকোটের দড়ি শক্ত করে বাঁধা হয়। বছরের পর বছর একই জায়গায় ঘর্ষণ হতে থাকলে সেখানে 'ক্রনিক ইরিটেশন' বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়। এই ক্ষত সময়মতো না সারলে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।
এর পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে-
প্রথমত, ক্রমাগত ঘর্ষণ: আঁটসাঁট দড়ি ত্বকের উপর চাপ ও ঘষা তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, ঘাম ও আর্দ্রতা: গরম আবহাওয়ায় ঘাম জমে সংক্রমণ ও চুলকানি বাড়ায়।
তৃতীয়ত, অপরিচ্ছন্নতা ও অবহেলা: দীর্ঘদিন ক্ষত বা দাগ অবহেলা করলে ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
তবে আশার কথা, সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই এই রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে পেটিকোট বা সায়া খুব শক্ত করে বাঁধবেন না; সম্ভব হলে ইলাস্টিক ব্যবহার করুন। সুতির, আরামদায়ক কাপড় পরুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। স্নানের পর কোমরের অংশ ভালো করে শুকনো রাখুন। দীর্ঘদিন চুলকানি, কালো দাগ বা ক্ষত থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সারাদিন আঁটসাঁট পোশাক না পরে মাঝে মাঝে ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন।
'শাড়ি ক্যানসার' বিরল হলেও অবহেলা করলে মারাত্মক হতে পারে। তাই সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।